ছবি: সংগৃহীত
হ্যান্ডকাফ পরানো অবস্থায় পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে গিয়ে যেন রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন একাধিক মামলার আসামি আসির মিয়া (৩০)। পালানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজের পলাতক হওয়ার খবরও জানান তিনি। এরপর থেকেই তাকে ধরতে শুরু হয় পুলিশের অভিযান।
অবশেষে সেই পলাতক আসির মিয়াকে সুনামগঞ্জ শহরের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে শহরের পানসি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ পিপিএম।
আটক আসির মিয়া শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামোদরতপি গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যেভাবে পালিয়েছিলেন
সম্প্রতি পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে আসির মিয়া হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যান। পুলিশের হেফাজত থেকে এমন নাটকীয়ভাবে পালানোর পর বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজেই প্রচার করেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই তাকে পুনরায় আটক করতে মাঠে নামে পুলিশ।
শেষ পর্যন্ত রেস্টুরেন্টেই ‘ফাঁদ’
আসিরকে ধরতে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ও সদর থানা পুলিশ বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জ শহরের পানসি রেস্টুরেন্টে তার অবস্থানের খবর পায় পুলিশ।
পরে সদর থানার ওসি রতন শেখ পিপিএমের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হয়। সঙ্গে ছিলেন জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মাহমুদুল হাসান, এসআই মুকুল খান, এএসআই খাদেম, এএসআই রোশনসহ ডিবির সদস্যরা এবং সদর থানার এসআই জহির হোসেন।
একপর্যায়ে পানসি রেস্টুরেন্ট থেকেই আসির মিয়াকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া, এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজের অবস্থান জানানোর ঘটনায় আসিরকে নিয়ে যখন এলাকায় নানা আলোচনা চলছিল, তখনই পুলিশের অভিযানে তার পলাতক অধ্যায়ের অবসান ঘটে।
বর্তমানে আসির মিয়া পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।