প্রকাশিত : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৬ (শুক্রবার)
সিলেটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মাজার জিয়ারত কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের হেনস্তা করল বিএনপির নেতাকর্মীরা

সিলেটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে পর্যাপ্ত কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়  বিএনপির পরবর্তী সকল কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় টেলিভিশন সাংবাদিকরা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো সিলেটে এসে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন হুমায়ুন কবির। এ সময় তিনি দরগাহ শরিফে অবস্থান করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মাজার প্রাঙ্গণেই গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল প্রতিমন্ত্রীর। মুসল্লিদের চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য মূলধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা মাজারের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন।

একপর্যায়ে নেতাকর্মীদের ভিড় ও চাপের কারণে সেখানে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ বিঘ্নিত হলে সাংবাদিকরা মাজারের বাইরে চলে আসেন। এ সময় ‘জিয়ার সৈনিক, এক হও’ স্লোগান দিয়ে একদল লোক সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা।

এ বিষয়ে যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক নাবিল হোসাইন তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মাজারেই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল প্রতিমন্ত্রীর। তবে নেতাকর্মীদের চাপে সেখানে কাজ করা সম্ভব না হওয়ায় গণমাধ্যমকর্মীরা মাজারের বাইরে চলে আসেন। তখন কয়েকজন যুবক গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন। তাদের দাবি ছিল, ‘মন্ত্রীর বক্তব্য না নিয়ে স্থান ত্যাগের সাহস গণমাধ্যমের হয় কীভাবে।’

নাবিল হোসাইন আরও লেখেন, এরপর সেখানে বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থিত একাধিক গণমাধ্যমকর্মী হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ ঘটনার নিন্দাও জানান তিনি।

স্টার নিউজের সিলেট ব্যুরো চিফ ইয়াহ্ইয়া মারুফ বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেওয়ার কথা ছিল। সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হন। তবে জুমার নামাজ শেষে প্রতিমন্ত্রী বের হওয়ার সময় নেতাকর্মীদের ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির কারণে মাজার প্রাঙ্গণে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে সাংবাদিকরা মাজারের বাইরে চলে এলে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের ওপর চড়াও হন এবং টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ জানান। সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ না থাকায় তারা স্থান ত্যাগ করেন।

চ্যানেল ওয়ানের সাংবাদিক এম এ কাইয়ুম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আপনাদের গায়ে শক্তি আছে বলে এটা করলেন! স্লোগান দিলেন, সাংবাদিকদের গায়ে হাত দিলেন। তাও প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাহেবের সামনে। আমাদের বয়কট করা ছাড়া আর কী করার আছে। শুভকামনা আপনাদের প্রতি।’

এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ স্থানীয় বিএনপির পরবর্তী কর্মসূচিগুলোর সংবাদ সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় টেলিভিশন সাংবাদিকরা।

তবে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির দায়িত্বশীল কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।