প্রকাশিত : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৩৩ (শুক্রবার)
‘চিকেনস নেক’-এ মহাসড়ক নির্মাণ করছে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তায় এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সরু ভূখণ্ডটির প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ২,০৭৭ কোটি টাকার একটি বিশাল প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন চার লেনের মহাসড়ক, যা মূলত বর্তমান এনএইচ-২৭ মহাসড়কের সমান্তরালে বিহারের গলগলিয়া থেকে বাগডোগরা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি এই মেগা প্রকল্পের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

নতুন এই বিকল্প সড়কটি চালু হলে বাগডোগরা বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াত অনেক সহজতর হবে। বিশেষ করে নকশালবাড়ি ও খড়িবাড়ির মতো জনবহুল এলাকার যানজট নিরসন করে পণ্যবাহী পরিবহনের গতি বাড়িয়ে দেবে এই পথ।

এছাড়া উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার লক্ষ্যে স্থানীয় কৃষক ও চা শ্রমিকদের পণ্য দ্রুত বড় বাজারে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকে এখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষাতেও অনন্য নজির রাখা হচ্ছে এই প্রকল্পে। প্রস্তাবিত মহাসড়কের একটি বড় অংশ বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় হাতির করিডর রক্ষায় ৫টি বিশেষ ‘এলিফ্যান্ট আন্ডারপাস’ নির্মাণ করা হবে। এতে দ্রুতগামী যানবাহনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমবে। এ ছাড়া প্রকল্পে ৩টি বড় সেতু ও ফুটওভার ব্রিজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলটির গুরুত্ব অপরিসীম। ভারত সরকারের এই তৎপরতা কেবল সড়কপথেই সীমাবদ্ধ নয়; পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ রেলপথ ও নতুন রেললাইন নির্মাণের কাজও দ্রুতগতিতে চলছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আপদকালীন পরিস্থিতিতে যাতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন না হয়, সেই দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই বিকল্প রুট তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।