প্রকাশিত : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৩ (শুক্রবার)
ওসমানী হাসপাতালে মন্ত্রীদের পরিদর্শন: সেবায় নাটকীয় পরিবর্তন

ছবি: ইমজা নিউজ

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিরচেনা বিশৃঙ্খল রূপ পাল্টে গেল মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে।

শুক্রবার (২৪ মে) সকালে দুই মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাজ সাজ রব আর নজিরবিহীন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার এক নাটকীয় মঞ্চায়ন করে, যা দেখে খোদ রোগীরাও হতবাক হয়েছেন। ছুটির দিনে শতভাগ চিকিৎসকের উপস্থিতি, নার্সদের বিনয়ী আচরণ আর স্ট্রেচারে বালিশ-বেডশিটের উপস্থিতি যেন কোনো এক অচেনা হাসপাতালের গল্প বলছিল।

সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। তাদের আগমনের খবরে আগের রাত থেকেই শুরু হয় ধোয়া-মোছার কাজ। দিনের পর দিন নষ্ট থাকা বাথরুম পরিষ্কার, নোংরা বেডশিট পরিবর্তন আর দালালমুক্ত করিডোর- সবই ছিল মন্ত্রীদের সন্তুষ্ট করার অপচেষ্টা।

ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের রোগী ইয়াকুব ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম আক্ষেপ করে জানান, গত রাতে শত অনুরোধেও বিছানার চাদর মেলেনি, অথচ সকালে মন্ত্রীর চোখে ধুলা দিতে তড়িঘড়ি করে সব পাল্টে দেওয়া হয়েছে। এমন তথাকথিত পরিবর্তনকে রোগীরা ‘কর্তৃপক্ষের সাজানো নাটক’ হিসেবেই দেখছেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গত ছয় মাসে দেশের স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা আগামী সাত দিনের মধ্যে সমাধান করা হবে।’

মন্ত্রী আরও জানান, দেশে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে এই মাসেই দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট কাটাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ নার্স ও ২ হাজার ৫০০ চিকিৎসকসহ মোট ৪৩ হাজার ৩৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘অবৈধ ক্লিনিক এবং দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধে র‍্যাব ও ডিজিএফআই কাজ করছে। যেখানেই অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানেই সিলগালা ও গ্রেফতার অভিযান চলবে।’

সিলেটের এই শীর্ষ সরকারি হাসপাতালে সেবার মান নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তবে স্থানীয়দের দাবি, মন্ত্রীর সফরের এই সাময়িক জৌলুস যেন পরবর্তী দিনগুলোতেও সাধারণ রোগীদের জন্য স্থায়ী সেবায় রূপান্তরিত হয়।