প্রকাশিত : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৩ (রবিবার)
২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের পূর্বাভাস

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতিতে ‘চীনা নস্ট্রাডামুস’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিয়াং জুয়েকিন ২০২৭ সাল নিয়ে এক ভয়াবহ পূর্বাভাস দিয়েছেন। তাঁর দাবি, আসন্ন দিনগুলোতে ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা মিলে দেশটিতে এক বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধ ও ব্যাপক দাঙ্গার পথ প্রশস্ত করতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন জুয়েকিন।

জিয়াংয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের চলমান সংঘাত শেষ পর্যন্ত এক রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘমেয়াদী স্থলযুদ্ধে রূপ নেবে। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এমনভাবে জড়িয়ে পড়বে যে, সেখান থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসতে তাদের অন্তত এক থেকে দুই দশক সময় লেগে যেতে পারে।

যুদ্ধের বিশাল জনবল চাহিদা মেটাতে মার্কিন প্রশাসন পুনরায় ১৮ বছর বয়সী তরুণদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা বা ‘ড্রাফট’ পদ্ধতি চালু করতে বাধ্য হবে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ বড় শহরগুলোতে উদ্ভূত বিশৃঙ্খলা দমনে সীমান্ত পুলিশ ও ভারী অস্ত্রসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করার প্রয়োজন পড়বে।

জিয়াং জুয়েকিন আরও সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রভাবে যদি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্বজুড়ে তেল, গ্যাস ও সারের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজার ধসে পড়ার পাশাপাশি মার্কিন অর্থনীতি এক ভয়াবহ মন্দার কবলে পড়বে।

সব মিলিয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে নিয়োগের প্রতিবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথগুলো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠবে, যা শেষ পর্যন্ত দেশটিকে এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে এই বিশ্লেষক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।