ছবি: ইমজা নিউজ
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা কোনো শর্ত নয়, বরং ভারতের সঙ্গে চলমান এনগেজমেন্টের অংশ হিসেবে এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে ভারতে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গরিব ও দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও পোশাক বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো কোনো কন্ডিশন নয়। এটা এনগেজমেন্ট অব্যাহত। ভারতের সঙ্গে এক্সট্রাডিশন ট্রিটি আছে। সেটার ভিত্তিতে আমরা আলাপ-আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছি।’
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের আরও অনেক নেতাকর্মী ভারতে অবস্থান করছেন। তাদেরও দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মাল্টি-এজেন্সির সমন্বয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে আমাদের এনগেজমেন্ট ভালো আছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে ভারত যেন তার ভূখণ্ডকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য ব্যবহার করতে না দেয়, সে বিষয়ে ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।’
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভারত যদি এ বিষয়ে দায়িত্বশীল অবস্থান রাখে, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমাদের ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ ভালো থাকা দরকার। আগামীতে ভারত সফরের বিষয়েও আমরা অবশ্যই আছি।’
মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মক্কা ও মদিনা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।’
তিনি বলেন, ‘মক্কা-মদিনা সুরক্ষিত থাকুক-এটা বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা। মুসলিম বিশ্বের শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ কেন কাজ করবে না?’
মক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজন মনে করলে এবং আমন্ত্রণ পাওয়া গেলে বাংলাদেশ এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাবে।’