ছবি: সংগৃহীত
চলছিল ইউএস ওপেনের উত্তেজনাকর লড়াই। কোর্টে তখন ফর্মের তুঙ্গে থাকা বেলারুশ তারকা আরিনা সাবালেঙ্কা। কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন! কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ নয়, বরং গ্যালারি থেকে ভেসে আসা গাঁজার তীব্র গন্ধে থমকে গেল ম্যাচ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, খোদ ম্যাচ আম্পায়ারের কাছে নালিশ জানিয়ে সাময়িকভাবে খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন টুর্নামেন্টের এই শীর্ষ বাছাই।
শনিবার নিউইয়র্কের লুই আর্মস্ট্রং স্টেডিয়ামে কামিলা রাখিমোভার বিপক্ষে তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিলেন সাবালেঙ্কা। প্রথম সেটে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকাকালীন তিনি অনুভব করেন গাঁজার উৎকট গন্ধ। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আম্পায়ার ইভা আসদেরাকি-মুরের নজরে আনেন তিনি।
সাবালেঙ্কা আম্পায়ারকে বলেন, ‘কেউ এখানে গাঁজা সেবন করছে। গন্ধটা এতটাই তীব্র যে টেকা দায়।’
সাবালেঙ্কার অভিযোগের পর আম্পায়ার তাৎক্ষণিক রেডিওতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দর্শকদের মধ্যে কাউকে ধূমপানের ভঙ্গি করে বিষয়টি অবহিত করেন। কিছুক্ষণ স্থগিত থাকার পর পুনরায় শুরু হয় খেলা।
তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সাবালেঙ্কার পারফরম্যান্সে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। ছন্দ ধরে রেখেই তিনি রাখিমোভাকে ৬-৩, ৬-৪ গেমে পরাজিত করে চতুর্থ রাউন্ড নিশ্চিত করেন।
ম্যাচ শেষে সাবালেঙ্কা জানান, ‘নিজের সেরা ফর্মে থেকে লড়াই করার সময় এ ধরনের গন্ধ সামলানো অত্যন্ত কঠিন। আমি জানি না এটা গ্যালারি থেকে আসছিল নাকি বাইরের বাতাস থেকে, তবে আমি চাই দর্শকরা এ বিষয়ে আরও একটু সচেতন হোক।’
উল্লেখ্য, ফ্লাশিং মিডো চত্বরে ধূমপান নিষিদ্ধ থাকলেও নিকটস্থ কোরোনা পার্ক থেকে প্রায়শই বাতাসের সাথে গাঁজার গন্ধ কোর্টে ঢুকে পড়ে। নিউইয়র্কে ২১ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিদের জন্য গাঁজা সেবন বৈধ হওয়ায় ইউএস ওপেনে এটি একটি পুরনো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেবল সাবালেঙ্কাই নন, এর আগে ব্রিটেনের কেটি বোল্টার, হ্যারিয়েট ডার্টসহ কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ ও আলেকজান্ডার জভেরেভও এই একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন। মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে এখন গ্যালারির এই ‘মাদক বিভ্রাট’ টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।