প্রকাশিত : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৫ (সোমবার)
নাচের ক্লাসে যাওয়া নিয়ে বিরোধ, স্ত্রীকে পিটিয়ে হ/ত্যার অভিযোগ

ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। নাচের ক্লাসে যাওয়া নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে ৩৮ বছর বয়সী যামিনী কৃষ্ণ লাল যাদবকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ৪১ বছর বয়সী কৃষ্ণ লাল যাদবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তে নিহতের শরীরে গুরুতর আঘাত ও শ্বাসরোধের চিহ্ন পাওয়ার পর ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার দিন কাজ শেষে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরেন কৃষ্ণ লাল। তিনি স্ত্রী যামিনীকে খাবার রান্না করতে বলেন। কিন্তু ওই সময় যামিনী নাচের ক্লাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে কৃষ্ণ লাল স্ত্রীকে ঘাড় ও পেটে উপর্যুপরি আঘাত করেন বলে অভিযোগ। ঘটনাটি তাদের সন্তানদের সামনেই ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় যামিনী ব্যথানাশক ওষুধ চাইলেও কৃষ্ণ লাল দোকান বন্ধ থাকার কথা বলে তা আনেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে যামিনীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করেছিল। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। প্রতিবেদনে যামিনীর ঘাড়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি অন্ত্রে গুরুতর জখম এবং শ্বাসরোধের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়।

এরপর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সামনে রেখে কৃষ্ণ লালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত যামিনীর ভাই জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক কলহ ছিল। তবে লোকলজ্জার ভয়ে যামিনী বিষয়গুলো পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত জানাতে চাইতেন না।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে নাগপুর পুলিশ।