ছবি: সংগৃহীত
দেশের প্রান্তিক ও অসচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য রান্নার জ্বালানি সাশ্রয়ী করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘এলপিজি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত এক লাখ পরিবার এখন থেকে প্রতি তিন মাসে মাত্র এক হাজার টাকায় ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার পাবেন। বর্তমানে বাজারে এলপিজির দাম যাই থাকুক না কেন, কার্ডধারীরা বছরে মোট চারটি সিলিন্ডার এই বিশেষ সুবিধায় সংগ্রহ করতে পারবেন।
আগামী নভেম্বর মাস থেকে এই পাইলট প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জ্বালানি বিভাগ।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রকৃত অসচ্ছল পরিবার শনাক্ত করা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ডাটাবেজের ওপর ভিত্তি করেই এই সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মানদণ্ড অনুযায়ী, যাদের স্কোর ৮৬০-এর নিচে থাকবে, তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ড পাবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ৭০ হাজার ফ্যামিলি কার্ডের বিপরীতে এই এলপিজি কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে সরকারিভাবে এলপিজি আমদানির প্রক্রিয়া এখনো নানা জটিলতায় আটকে আছে। কাঙ্ক্ষিত দামে কোটেশন না পাওয়া এবং নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের পারফরম্যান্স গ্যারান্টি দিতে ব্যর্থতায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আইনগত মতামতের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
তবে সংকট মোকাবিলায় জেএমআই এলপিজি লিমিটেডের সঙ্গে তিন মাসের একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এই চুক্তির আওতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টোরেজ ক্ষমতা ব্যবহার করে সরকারি গ্যাস দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা হবে।
বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজারের ৯৮ শতাংশের বেশি বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। সরকারি অংশীদারত্ব মাত্র ১.৩৩ শতাংশ। এই বৈষম্য দূর করতে এবং নিম্নআয়ের মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব অবকাঠামো তৈরিরও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের দক্ষিণ কাট্টলী, টেকনাফ ও মোংলায় ল্যান্ড-বেইজড এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের এই মহতী উদ্যোগ সফল হলে গ্রামীণ জনপদে সাশ্রয়ী মূল্যে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।