ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ধর্মীয় উৎসব এবং গাজা সংঘাতের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে বিদেশে অবস্থানরত ইসরাইলি ও ইহুদি নাগরিকদের ওপর হামলার আশঙ্কা করছে ইসরাইল। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে তাদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করেছে দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এনএসসি)। সতর্কতার আওতায় বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো বিদেশে অবস্থানরত ইসরাইলি নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরাইল ও ইহুদিবিরোধী বিক্ষোভ এবং সহিংসতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে এনএসসি।
ইসরাইলের প্রকাশিত ভ্রমণ সতর্কতায় বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই তালিকায় পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, লিবিয়া ও আলজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশও রয়েছে। ইসরাইলি নাগরিকদের এসব দেশে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং অবস্থান করলে স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এনএসসির আগের সতর্কতাতেও বাংলাদেশকে এশিয়ার এমন অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, যেখানে বৈশ্বিক জিহাদি সংগঠনগুলোর তৎপরতার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে ইসরাইলি ও ইহুদি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছিল সংস্থাটি।
ইরান, সিরিয়া, লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনসহ কয়েকটি দেশে ইসরাইলিদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব এলাকায় ইসরাইলি নাগরিকদের অবস্থান না করার পাশাপাশি কোনো নাগরিক সেখানে থাকলে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।
অন্যদিকে জর্ডান, কাতার, মিসর ও তুরস্কের মতো দেশগুলোকেও উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত ইসরাইলিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে এনএসসি। জনসমক্ষে নিজেদের ইসরাইলি পরিচয় প্রকাশ না করা, হিব্রু ভাষায় প্রকাশ্যে কথা বলা এড়িয়ে চলা এবং ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করে এমন পোশাক বা প্রতীক ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাৎক্ষণিক অবস্থান প্রকাশ না করা এবং বড় ধরনের জনসমাগম ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলতেও বলা হয়েছে।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের মতে, গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিদেশে ইসরাইলি ও ইহুদি নাগরিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা এবং বিদ্বেষমূলক ঘটনার ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান। তাই বিদেশ ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও এনএসসির সর্বশেষ ভ্রমণ সতর্কতা যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।