ছবি: সংগৃহীত
একটা ছবি তুললেন এখন। কয়েক সেকেন্ড পর সেটি দেখে মনে হলো;আরে, এ তো ১৯৮০ সালের কোনো সিনেমার নায়ক-নায়িকা! চুলে বাড়তি ভলিউম, চোখে বড় চশমা, গায়ে পুরোনো দিনের পোশাক, ছবিতে হালকা হলদেটে আলো। ব্যাকগ্রাউন্ডও এমন, যেন পাশেই পরিচালক দাঁড়িয়ে বলবেন, ‘ক্যামেরা... অ্যাকশন!’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন এমন দৃশ্যই চোখে পড়ছে। আশির দশকে জন্মই হয়নি, অথচ সেই সময়ের ‘আমি’ কেমন দেখতে ছিলাম;এআইয়ের কল্যাণে সেটিও দেখে ফেলছেন নেটিজেনরা!
ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ‘৮০-এর দশকে আমি কেমন ছিলাম’ ধরনের ছবি। নিজের বর্তমান সময়ের ছবি এআই টুলে আপলোড করে সঙ্গে দিতে হচ্ছে একটি ভালো প্রম্পট। ব্যস, তারপরই বর্তমানের ছবি চলে যাচ্ছে কয়েক দশক পেছনে।
কারও মাথায় উঠে আসছে ঘন চুল, কারও মুখে গোঁফ। কেউ পরছেন আশির দশকের রঙচঙে পোশাক, কেউ আবার বড় ফ্রেমের চশমা পরে এমন ভাব করছেন, যেন সদ্য কোনো পুরোনো বাংলা সিনেমার পোস্টার থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
ছবির মুখাবয়ব সাধারণত অনেকটাই একই রাখা হলেও বদলে যাচ্ছে পোশাক, চুলের স্টাইল, অ্যাকসেসরিজ, আলো ও পটভূমি। সঙ্গে যোগ হচ্ছে পুরোনো দিনের সিনেমার মতো উষ্ণ আলো, সফট ফোকাস, ফেডেড রং আর অ্যানালগ ফিল্মের গ্রেইন।
ফলে ছবিটি দেখে পরিবারের কেউ কেউ হয়তো প্রথমে থমকে যেতে পারেন;‘এই ছবিটা আবার কবে তুললে?’
আসলে তখনও এআই ছিল না, ছিল না স্মার্টফোনও। কিন্তু এখন প্রযুক্তি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, আশির দশকে না থেকেও সেই সময়ের ‘নিজেকে’ দেখে নেওয়া যাচ্ছে এক ক্লিকেই।
শুধু সাধারণ ব্যবহারকারীরাই নন, বিভিন্ন দেশের পরিচিত ব্যক্তিরাও রেট্রো ছবির এই ট্রেন্ডে যোগ দিচ্ছেন। এর আগে ভিনটেজ শাড়ি, পুরোনো সিনেমার পোস্টার কিংবা পোলারয়েড ছবির আদলেও এআই ছবি তৈরির হিড়িক দেখা গেছে।
সব মিলিয়ে প্রযুক্তি যেন নেটিজেনদের হাতে তুলে দিয়েছে একটি মজার টাইম মেশিন। পার্থক্য শুধু একটাই;এই টাইম মেশিনে যেতে টিকিট লাগে না, লাগে একটি ছবি আর একটু ভালো প্রম্পট!
বানাবেন কীভাবে?
খুব কঠিন কিছু নয়। প্রথমে কোনো এআই ছবি তৈরির টুলে নিজের পরিষ্কার ছবি আপলোড করতে হবে। মুখ স্পষ্ট থাকলে ফলাফল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এরপর কী ধরনের আশির দশকের লুক চান, সেটি বিস্তারিতভাবে নির্দেশনায় লিখতে হবে।
যেমন লিখতে পারেন;
‘ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকের একটি বাস্তবসম্মত পোর্ট্রেটে রূপান্তর করুন। ব্যক্তির মুখের বৈশিষ্ট্য, পরিচয়, বয়স ও স্বাভাবিক অভিব্যক্তি অপরিবর্তিত রাখুন। ১৯৮০-এর দশকের উপযোগী চুলের স্টাইল, পোশাক ও মেকআপ দিন। পেছনে পুরোনো স্টুডিওর আবহ রাখুন। ছবিতে ৩৫ মিমি ফিল্মের সূক্ষ্ম দানা, উষ্ণ রং, নরম ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক ছায়া এবং বাস্তবসম্মত ত্বকের টেক্সচার যোগ করুন। ছবিটি যেন আধুনিক ছবিতে শুধু ভিনটেজ ফিল্টার দেওয়ার মতো না হয়ে সত্যিই ১৯৮০-এর দশকে তোলা ছবি মনে হয়। কোনো লেখা, ওয়াটারমার্ক বা আধুনিক উপাদান রাখবেন না।’
তবে মজার এই ট্রেন্ডে ছবি দেওয়ার আগে একটু সাবধানও হতে হবে। ব্যক্তিগত ছবি কোনো এআই প্ল্যাটফর্মে আপলোড করার আগে সেই সেবার ডেটা সংরক্ষণ ও গোপনীয়তা নীতি দেখে নেওয়া ভালো।
কারণ আশির দশকে ফেরার স্বপ্ন যতই সুন্দর হোক, ছবি বানাতে গিয়ে নিজের বর্তমান সময়ের ব্যক্তিগত তথ্যটাকেই যেন ভবিষ্যতের কোনো অচেনা ‘টাইম মেশিনে’ তুলে না দেন!