প্রকাশিত : ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:২৩ (বৃহস্পতিবার)
সিলেটের এমপি-মন্ত্রীরাও যদি ‘৮০-এর লুকে’ ফিরতেন!

ছবি: সংগৃহীত

একটা ছবি, কয়েক লাইনের নির্দেশনা; ব্যস! মুহূর্তেই আপনি চলে যেতে পারেন চার দশক পেছনে। আধুনিক পোশাক বদলে হয়ে যেতে পারেন আশির দশকের নায়ক, নায়িকা কিংবা পাড়ার সেই ‘হ্যান্ডসাম বড় ভাই’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন চলছে এমনই এক মজার ট্রেন্ড।

এআইয়ের কল্যাণে বর্তমান সময়ের ছবি বদলে যাচ্ছে আশির দশকের স্মৃতিময় ছবিতে। কারও গায়ে বেলবটম, কারও চোখে বিশাল ফ্রেমের চশমা, কারও মাথায় ঘন চুল; আর ব্যাকগ্রাউন্ডে পুরোনো স্টুডিওর আলো। ছবিটি দেখে মনে হতে পারে, মানুষটি সত্যিই ১৯৮৪ সালের কোনো এক বিকেলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন!

নেটিজেনদের প্রশ্নও তাই; ‘আমি যদি আশির দশকে থাকতাম, কেমন দেখাতাম?’

কেউ হয়েছেন সিনেমার নায়ক, কেউ হয়েছেন কলেজের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা, আবার কেউ ছবিতে এমন ভাব নিচ্ছেন; মনে হচ্ছে এলাকার অর্ধেক মানুষ তাঁর কাছে চা খেতে আসতেন!

সিলেটের এমপি-মন্ত্রীরা যদি আজ এআইয়ের সামনে বসতেন?

এআইয়ের এই ট্রেন্ড যদি আশির দশকের সিলেটের রাজনীতিকদের নিয়েও শুরু হতো, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসির খোরাক কম হতো না।

শুধু মানুষ নয়, ছবির পেছনের সিলেটটাও যদি এআইয়ে আশির দশকে ফিরিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে নস্টালজিয়ার মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

ধরা যাক; পেছনে সিলেট শহরের পুরোনো রাস্তা। রিকশা চলছে ধীরে। দোকানের সামনে ঝুলছে হাতে লেখা সাইনবোর্ড। কারও হাতে ক্যাসেট প্লেয়ার, কারও কাঁধে ব্যাগ। আর ছবির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন সিলেটের কোনো তৎকালীন এমপি; পরনে সাদামাটা পাঞ্জাবি, চোখে চশমা, চারপাশে নেতাকর্মীদের ভিড়।

ছবির নিচে ক্যাপশন- ‘সিলেট, ১৯৮৬। তখন ফেসবুক ছিল না, কিন্তু রাজনৈতিক আড্ডা ছিল জমজমাট!’

আর যদি কারও হাতে মোবাইল ধরিয়ে দেওয়া হয়?

সেটি অবশ্য একটু বেশি হয়ে যাবে!

কারণ আশির দশকে মোবাইল ফোন তো দূরের কথা, আজকের মতো ‘ভাই, পোস্টটা শেয়ার কইরেন’ বলারও সুযোগ ছিল না। তখন খবর ছড়াত চায়ের দোকান, বাজার, মিছিল আর মুখে মুখে।

এআইয়ের এই ট্রেন্ডের জনপ্রিয়তার পেছনে মূল আকর্ষণ আসলে প্রযুক্তি নয়, নস্টালজিয়া। যারা আশির দশক দেখেননি, তারাও এখন নিজেদের সেই সময়ের মানুষ হিসেবে কল্পনা করতে পারছেন। আর যারা আশির দশক দেখেছেন, তারা ছবিতে ফিরে পাচ্ছেন নিজেদের ফেলে আসা দিন।

একজন নেটিহজেন বর্তমানের ছবি আপলোড করে লিখছেন-‘আমাকে ১৯৮৫ সালে নিয়ে যান।’ আর এআই যেন বলছে; ‘ঠিক আছে, তবে বেলবটমটা পরতে হবে!’

কেউ আবার নিজের ছবির সঙ্গে পুরোনো দিনের মোটরসাইকেল, কাঠের চেয়ার, ক্যাসেট প্লেয়ার কিংবা সিনেমার পোস্টার যোগ করছেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের টাইমলাইন হয়ে উঠছে এক ধরনের ভার্চুয়াল আশির দশক।

শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা খুব সহজ; আশির দশকে জন্ম না হলেও সমস্যা নেই। এআই আছে, প্রম্পট আছে, আর আছে একটু কল্পনাশক্তি।