ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, তার অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম।
রোববার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, শেখ সেলিম বর্তমানে দলের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য। তার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একইসঙ্গে শেখ হাসিনা জানান, তার বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
শেখ হাসিনার এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে সম্ভাব্য নেতা হিসেবে তুলে ধরলেও শেখ সেলিমের নাম নিয়ে অনেকে হতাশা প্রকাশ করছেন।
আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত অবশ্য বলেছেন, শেখ হাসিনা কাউকে নেতৃত্বে বসানোর কথা বলেননি; তিনি শুধু দলের গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে মারা গেছেন বা কারাগারে থাকায় শেখ সেলিম বর্তমানে জ্যেষ্ঠতম নেতা হিসেবে বিভিন্ন সভায় সভাপতিত্ব করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মজিবর রহমান চৌধুরীর মতে, শেখ সেলিম আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা হলেও নতুন সময় ও প্রজন্মের প্রত্যাশার সঙ্গে তার নাম কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুকাল ধরে সক্রিয় এবং বিভিন্ন অভিযোগে সমালোচিত শেখ সেলিম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের আপন ভাগ্নে। তার পুরো নাম শেখ ফজলুল করিম সেলিম।
১৯৭৫ সালের পনেরই অগাস্টে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের ছাড়াও যাদের হত্যা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে মি. সেলিমের বড় ভাই শেখ ফজলুল হক মণি ও তার স্ত্রীও ছিলেন।
তার বোনের ছেলে আন্দালিভ রহমান পার্থ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী। আরেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সম্পর্কে মি. সেলিমের বেয়াই।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর ১৬ সদস্যের মধ্যে ক্রমানুসারে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের অবস্থান তৃতীয়। তার আগের দুজন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও মতিয়া চৌধুরী মারা গেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে দেশে দেখা যায়নি। দলীয় সূত্রগুলো দাবি করছে, তিনি এখন ভারতে অবস্থান করছেন।
সম্পর্কে শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিম ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারে মন্ত্রী ছিলেন। দলীয় পরিমণ্ডলে শেখ পরিবারের সদস্য হিসেবে বরাবরই প্রভাবশালী মি. সেলিম দীর্ঘকাল আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন।
তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদে গোপালগঞ্জ থেকে প্রথমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সবমিলিয়ে তিনি আটবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। আটবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত এই নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন।
এদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘নতুন সময়ের দরকার নতুন মানুষ ও নতুন আইডিয়া। আমাদের উচিত নতুন প্রজন্মের হাতে ব্যাটন তুলে দেওয়া।’