ছবি: ইমজা নিউজ
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাজপুর কলেজ জাতীয়করণের সুপারিশ করেছেন সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর লুনা। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর পাঠানো এক আধা-সরকারিপত্রে (ডিও লেটার) তিনি এ সুপারিশ করেন।
ডিও লেটারে এমপি তাহসিনা রুশদীর লুনা উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত তাজপুর কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে ওসমানীনগরসহ আশপাশের উপজেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিকের মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার পাশাপাশি স্নাতক (পাস) এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও বাংলা বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু রয়েছে। এসব কোর্সে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।
কলেজটিতে খেলার মাঠ, আইসিটি ল্যাব ও আধুনিক ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন শিক্ষা-সুবিধা রয়েছে। স্নাতক (সম্মান) কোর্সে পাসের হার ৯১ শতাংশ, স্নাতক (পাস) কোর্সে প্রায় ৬০ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিকেও সন্তোষজনক ফলাফল অর্জিত হচ্ছে বলে ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়।
তাজপুর কলেজ শুধু ওসমানীনগর নয়, পার্শ্ববর্তী বালাগঞ্জ, বিশ্বনাথ, দক্ষিণ সুরমা, নবীগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার শিক্ষার্থীদেরও উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছে। কলেজটির উন্নয়নে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন এমপি লুনা।
ডিও লেটারে আরও বলা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নীতিমালা’ অনুযায়ী উপজেলা সদরে অবস্থিত, প্রাচীনতম এবং আয়তন ও শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক থেকে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও তাজপুর কলেজ বিগত সরকারের সময়ে জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নীতিমালার শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও কলেজটিকে জাতীয়করণ না করায় স্থানীয় শিক্ষার্থীরা সরকারি শিক্ষা-সুবিধার সুফল থেকে পিছিয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় তাজপুর কলেজকে জাতীয়করণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ কামনা করেন সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা।
এদিকে, তাজপুর কলেজ জাতীয়করণের সুপারিশ করায় এমপি তাহসিনা রুশদীর লুনার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহল।
তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার তাজপুর কলেজ জাতীয়করণের উদ্যোগ নিয়ে ওসমানীনগরের শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ করবে।