ছবি: সংগৃহীত
নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বছরজুড়ে ফসল উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে রাজশাহী বিভাগের ১০২ জন চাষির জন্য পলিনেট হাউস নির্মাণ করে দিয়েছিল কৃষি বিভাগ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ‘আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এসব হাউস নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। প্রতিটি হাউস তৈরিতে গড়ে খরচ হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। তবে তিন বছর পর দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ হাউসে নিয়মিত ফসল উৎপাদন হচ্ছে না।
দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সরেজমিন অনুসন্ধান ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছে, সাতটি হাউসের মধ্যে চারটির পলিথিন ছেঁড়া এবং একটির পলিথিন পুরোপুরি খুলে ফেলা হয়েছে। ১৬ জন চাষির মধ্যে ১০ জন জানিয়েছেন, পলিনেট হাউসে চাষ করে তাঁরা বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন। বিপরীতে ছয়জন সফলতার কথা বলেছেন; তাঁদের মধ্যে চারজন চারা উৎপাদন, একজন আঙুর ও একজন ফুল চাষে সফল হয়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে হাউসগুলো টেকসই হয়নি। অনেকেই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা পাননি বলেও জানিয়েছেন। বেশির ভাগ হাউসের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ‘মিক্সড ইরিগেশন’ যন্ত্রও সচল নেই। কৃষকদের দাবি, যন্ত্রগুলো এক বছরের মধ্যেই নষ্ট হয়ে গেলেও তা মেরামতে প্রকল্প থেকে সহায়তা পাওয়া যায়নি।
তবে কৃষি বিভাগের প্রকল্প পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামান কৃষকদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ঠিকাদার এক বছর বিনা মূল্যে সেবা দেওয়ার কথা ছিল এবং পলিথিন ছিঁড়ে গেলে তিন বছর পর্যন্ত মেরামতের ব্যবস্থা ছিল। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন কৃষকদেরই রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞ মো. আহসানুল হক বলেন, বাংলাদেশের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে পলিনেট হাউসে সফল চাষের জন্য ফসলভেদে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ু চলাচল নিয়ন্ত্রণ জরুরি। কিন্তু সব ফসলের জন্য প্রায় একই ব্যবস্থা রাখায় প্রকল্পটি সফল হচ্ছে না।