প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৫ (শুক্রবার)
প্রবাসীদের জন্য ৪১ দেশে চালু হচ্ছে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদানের সেবা পর্যায়ক্রমে ৪১টি দেশে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে ১৭টি দেশে অবস্থিত ২৭টি বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দূতাবাসে এনআইডির আবেদন গ্রহণ করা হলেও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা হয় নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে মোট ৪১টি দেশে এই সেবা সম্প্রসারণে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যেসব বাংলাদেশি মিশনে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেখানে অনলাইনে আবেদন, প্রবাসীদের সুবিধাজনক সময়ে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট এবং আবেদনের অগ্রগতি জানার ব্যবস্থা রয়েছে।

দূতাবাস পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করলেও পাসপোর্ট ঢাকায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ইস্যু করা হয়। দ্রুত পাসপোর্ট সরবরাহ নিশ্চিত করতে দূতাবাসগুলো নিয়মিত অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে।

পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে আবেদনকারীকে এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়।

বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসীদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ঢাকা থেকে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন দল পাঠিয়ে এসব দেশে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

কনস্যুলার সেবা সহজ করতে অনলাইন সত্যায়ন ও ই-অ্যাপোস্টিল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সেবাপ্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করে ডিজিটাল সনদ গ্রহণ করতে পারছেন। এতে সময়, ব্যয় ও ভোগান্তি কমছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনায় পাসপোর্ট, ভিসা এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের তথ্য যাচাই সহজ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি অনলাইন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিটি বাংলাদেশি মিশনে অনলাইন ‘গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেম’ চালু রয়েছে। অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কার্যক্রম জোরদার এবং সেবাগ্রহীতাদের প্রশ্নের দ্রুত উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।