প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:২৩ (শুক্রবার)
রেমা-কালেঙ্গার গহিন বনে বিরল ‘দানব’ কাঠবিড়ালীর দেখা

ছবি: সংগৃহীত

ঘন অরণ্যের গাছের ডালে ডালে ছুটে বেড়াচ্ছে বিশালদেহী এক প্রাণী। সাধারণ কাঠবিড়ালীর তুলনায় আকারে কয়েকগুণ বড় এই প্রাণীটি ‘মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেল’। বিরল এই প্রজাতির কাঠবিড়ালীর দেখা মিলেছে হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের গহিন বনে।

সম্প্রতি রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের গভীর অরণ্য থেকে মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেলের স্থিরচিত্র ধারণ করেছেন শৌখিন বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী শাহেদ আহমেদ। বাংলাদেশে দেখা পাওয়া কাঠবিড়ালী প্রজাতিগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈজ্ঞানিক নাম Ratufa bicolor। স্থানীয়ভাবে এটি ‘বড় কাঠবিড়ালী’ নামেও পরিচিত। পূর্ণবয়স্ক একটি মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেলের শরীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর ঝোপালো লেজও প্রায় শরীরের সমান লম্বা হওয়ায় মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত মোট দৈর্ঘ্য এক মিটারের বেশি হতে পারে। ওজন প্রায় দুই কেজি পর্যন্ত হয়।

সাধারণত উঁচু গাছের মগডালে বিচরণ করে এই প্রাণী। ভারসাম্য রক্ষায় এর দীর্ঘ ও ঝোপালো লেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বুনো ফল, বীজ, বাদাম ও গাছের কচি পাতা এদের প্রধান খাদ্য। বড় গাছের কোটর কিংবা উঁচু ডালপালায় এরা বাসা তৈরি করে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, রেমা-কালেঙ্গা বনে মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেলের উপস্থিতি এখানকার সুস্থ বাস্তুসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। তবে বন ও এর জীববৈচিত্র্যের ওপর নানা ধরনের চাপ রয়েছে।

হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দেব বলেন, পুরোনো ও উঁচু গাছ কমে গেলে এই প্রজাতির প্রাণী দ্রুত আবাসস্থল ও খাদ্যসংকটে পড়ে। বন উজাড়, অবৈধ শিকার এবং বনের ভেতরে মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে এদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।

কালেঙ্গা বিট কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, রেমা-কালেঙ্গায় এই বড় আকৃতির কাঠবিড়ালীর উপস্থিতি বনের জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধির প্রতীক। এদের সংরক্ষণে বন বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন হতে হবে।

প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়া এই বিরল প্রাণী যেন কেবল ছবিতেই সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং রেমা-কালেঙ্গার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে নিরাপদে বিচরণ করার সুযোগ পায়।