প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৭ (শুক্রবার)
লন্ডনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে লন্ডনে ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই)।

চেম্বারটির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক উপলক্ষে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) লন্ডনের আইভি হিল হোটেলে আয়োজিত ‘বিবিসিসিআই বিজনেস রিসেপশন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিবিসিসিআই জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ট্রেড সেন্টারটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ কিংবা ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে এটি।

বিবিসিসিআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল মুসলেহ আহমেদ বলেন, ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চেম্বারের কার্যক্রমকে প্রচলিত নেটওয়ার্কিংয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে ব্যবসায়ীদের জন্য বাস্তব ও কার্যকর সুযোগ তৈরির দিকে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টারের লক্ষ্য হলো যোগাযোগকে বাণিজ্যে এবং আকাঙ্ক্ষাকে সুযোগে রূপান্তর করা। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই, যেখানে ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে, অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে, নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে এবং একসঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবেন।’

বিবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মুহিব চৌধুরী বলেন, ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার একটি আধুনিক ও উচ্চাভিলাষী চেম্বার গড়ে তোলার প্রতি আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এটি ব্যবসায়ীদের জন্য বহুমুখী সুযোগ সৃষ্টি করবে। ব্রিটেন ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিবিসিসিআই অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’

চেম্বারটি জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, সরকারি প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।

বিবিসিসিআইয়ের মতে, ভবিষ্যতে ট্রেড সেন্টারটি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা শুধু নেটওয়ার্কিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব ও অর্থবহ বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিবিসিসিআইয়ের বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা ড. ওয়ালি তাসার উদ্দিন এমবিই, আহমদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, সাইদুর রহমান রেনু, সাবেক প্রেসিডেন্ট বশির আহমেদ বিইএম ও রফিক হায়দার, নর্থ ওয়েস্ট রিজিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান, লন্ডন রিজিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, ডিরেক্টর আতাহির খান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাজ নজরুল খসরু, নির্বাচন কমিশনার ড. জাকির খান ও তারেক চৌধুরী, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ক্লিনিক্যাল লেকচারার ড. মঞ্জুর শওকতসহ বিভিন্ন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিবিপিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা কাউন্সিলর আবদাল উল্লাহ, বিসিএ প্রেসিডেন্ট অলি খান, চ্যানেল এসের প্রতিষ্ঠাতা মাহী ফেরদৌস জলিল, এনটিভি ইউরোপের সিইও সাবরিনা হোসাইন, জনমত ও কারি লাইফের সম্পাদক সাংবাদিক সৈয়দ নাহাস পাশা, বাংলাদেশ সেন্টারের সেক্রেটারি তফজ্জুল মিয়া এবং হারোর সাবেক মেয়র সেলিম চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের আগে বিবিসিসিআইয়ের দুটি ডিরেক্টর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আমিরুল ইসলাম চৌধুরী ও জাহিরুল ইসলাম সিআইপি নতুন ডিরেক্টর নির্বাচিত হন।