প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০০ (শুক্রবার)
যুক্তরাষ্ট্রে জালিয়াতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীর ৭৬ মাসের জেল

ছবি: জাকিয়া খান

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশাল অংকের জালিয়াতির দায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাকিয়া খানকে (৫৫) ৭৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন মার্কিন আদালত।

অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার পরিচালনার আড়ালে ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৯০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা) প্রতারণার অভিযোগে গেলো বুধবার ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ নাতাশা মার্লে এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, জাকিয়া খান ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ড এলাকায় ‘হ্যাপি ফ্যামিলি’ এবং ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল’ নামে দুটি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার সেন্টার পরিচালনা করতেন। ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের নিজের সেন্টারে নিয়ে আসতেন এবং তাদের নগদ অর্থ ও অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে ভুয়া বিল তৈরি করতেন।

প্রকৃতপক্ষে কোনো সেবা প্রদান না করেই তিনি মেডিকেইডের কাছে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বিল জমা দেন, যার বিপরীতে কর্তৃপক্ষ ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার পরিশোধ করে। জালিয়াতির মাধ্যমে পাওয়া অর্থের উৎস গোপন করতে তিনি একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানও ব্যবহার করেছিলেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে জাকিয়া খান একজন ছদ্মবেশী গোয়েন্দা কর্মকর্তার হাতে ঘুষের অর্থ তুলে দেওয়ার সময় গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়েন। ভিডিওতে তাকে অত্যন্ত উৎফুল্ল মেজাজে টেবিলের ওপর নগদ ডলারের বান্ডিল সাজিয়ে গুনতে দেখা যায়। এই অকাট্য প্রমাণের মুখে গত বছরের আগস্টে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন।

কারাদণ্ডের পাশাপাশি জাকিয়ার বাসা থেকে জব্দ করা নগদ অর্থ, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার এবং দুটি বাড়িসহ মোট ৫০ লাখ ডলারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সাথে মেডিকেইডের ক্ষতিপূরণ বাবদ তাকে ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি নোসেলা এই রায়কে করদাতাদের সুরক্ষা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।