ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় লোহিত সাগরের কৌশলগত নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ হুমকির মুখে পড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করে হুতিরা এখন বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ ও বিমান হামলার অনুরোধ জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দুবার ফোন করে ইয়েমেনের শোচনীয় পরিস্থিতির কথা জানান এবং হুতিদের লক্ষ্য করে মার্কিন বিমান হামলার আহ্বান জানান। তবে ওয়াশিংটন আপাতত সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে জড়াতে রাজি হয়নি।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
রণক্ষেত্রে হুতিদের দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর দখলের পর বিদ্রোহীরা এখন হানিশ দ্বীপপুঞ্জে অবস্থান নিয়েছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়েছে। লোহিত সাগরের এই রুটটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য প্রধান ধমনী হিসেবে বিবেচিত।
জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করে বলেছেন, ইয়েমেন যুদ্ধ এখন 'নতুন ও বিপজ্জনক' পর্যায়ে মোড় নিয়েছে।
এদিকে হুতিদের এই অগ্রযাত্রার নেপথ্যে ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন সামরিক সূত্র। যদিও ইরান সংলাপের ওপর জোর দিচ্ছে এবং হুতিরা একে 'আত্মরক্ষামূলক' অভিযান বলে দাবি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইরান ও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের মনোযোগ ধরে রাখতে চাইছে। ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য লোহিত সাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা, তবে ইয়েমেনে আরেকটি নতুন যুদ্ধক্ষেত্র খোলার ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।