ছবি: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্ব রাজনীতির নতুন মেরুকরণ ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো বার্তা দিয়েছেন সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা।
সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি পশ্চিমা আধিপত্যের সমালোচনা করে বলেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং বাণিজ্য অবরোধের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। ক্ষমতার জোর খাটিয়ে অন্যের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা ত্যাগ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা উল্লেখ করে তিনি সতর্কবার্তা দেন যে, এই সংঘাত কেবল সাধারণ মানুষের জীবন ধ্বংস করছে না, বরং সমগ্র বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও আলোচনায় অংশ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্রিকস দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশ এখন এই জোটের অন্তর্ভুক্ত। ক্ষমতার পুরনো কাঠামো ভেঙে এমন এক নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান মোদি, যেখানে ছোট-বড় সব দেশের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।
ব্রিকস নেতাদের এই সম্মিলিত বার্তা বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় এক নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।