ছবি: সংগৃহীত
রোহিঙ্গা সংকটের একটি সমন্বিত ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ‘Protracted Rohingya Crisis: The Search for a Comprehensive Approach’ শীর্ষক এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিশেষ পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নির্দেশনায় (প্রদত্ত তথ্যে উল্লিখিত নেতৃত্বের কাঠামো অনুযায়ী) রোহিঙ্গা বিষয়ক ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক, মানবিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে একটি শক্তিশালী জাতীয় কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। তিনি সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর কেবল মানবিক সহায়তা নয়, বরং কার্যকর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং ন্যায়সংগত দায়িত্ব ভাগাভাগির (Burden Sharing) ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো উঠে আসে। বিশেষ করে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে বৈশ্বিক শক্তির জোরালো ভূমিকার দাবি জানান বিশেষজ্ঞরা।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম, ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত এবং বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন।
সম্মেলনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ এস এম আলী আশরাফ।
অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সংলাপ অত্যন্ত সময়োপযোগী।