ছবি: আজম মিয়া
কাতারে জীবিকার তাগিদে কাজ করতে গিয়ে বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে আজম মিয়া (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১২ অক্টোবর) রাতে দোহার একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজম মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে কাতারে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন আজম। ঘটনার দিন রাত আটটার দিকে স্ত্রী সুলতানা বেগমের সাথে তার শেষ কথা হয়।
মরুদেশের প্রচণ্ড গরমের কারণে রাতে কাজ করতে যাওয়ার কথা স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই কাজই যে তার জীবনের শেষ কাজ হবে, তা ভাবেনি পরিবার।
রোববার সকালে কাতার প্রবাসী আত্মীয়দের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, কাজ করার সময় রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই আজমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার সাথে থাকা আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত আজমের বড় ভাই মাতাব মিয়া জানান, চার ভাইয়ের মধ্যে আজমের উপার্জনেই তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের (দুই ছেলে ও এক মেয়ে) সংসার চলত। দুই বছর আগে ছুটি কাটিয়ে পুনরায় কাতার গিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তার মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি পরিবার।
কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. রুশন মিয়া নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। তিনি জানান, আজমের মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এলাকায় এই অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।