ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে নৌকাবাইচ আয়োজন নিয়ে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও ও ধলমৈশা গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয়োজনের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এ অবস্থায় নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুজেল আহমদ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেন। অভিযোগের অনুলিপি শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছেও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত না করেই আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়নের ধলমৈশা গ্রামের দক্ষিণে খাই হাওরে নৌকাবাইচ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধলমৈশা গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আবুল হোসেন এ আয়োজনের উদ্যোক্তা বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদকে না জানিয়ে বড় ধরনের এ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি। একই সঙ্গে ফেসবুকে বিভিন্ন অশালীন পোস্ট ও মন্তব্যের কারণে উত্তেজনা বাড়ছে। নৌকাবাইচ বন্ধ করা না হলে গ্রামকেন্দ্রিক সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নৌকাবাইচ আয়োজকরা সংঘাতের আশঙ্কা দেখছেন না বলে জানান। আয়োজক আবুল হোসেনের ভাই আলী হোসেন বলেন, ‘গত বছরও পাঁচ গ্রামের সমন্বয়ে নৌকাবাইচ সফলভাবে হয়েছিল। সেখানে বীরগাঁও গ্রামের কোনো বিষয় নেই। গত বছরও একই ধরনের বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু নৌকাবাইচ সফলভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। এবারও পাঁচ গ্রামের মানুষ আয়োজন সফল করতে কাজ করছেন। নৌকাবাইচ নিয়ে সংঘাতের কোনো আশঙ্কা নেই; যারা বিতর্ক করছেন, বিষয়টি তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।’
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমা বলেন, দিনের বেলা জেলা পর্যায়ের সভা থাকায় তিনি লিখিত অভিযোগ হাতে পাননি। তবে প্যানেল চেয়ারম্যান ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। তাঁকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে থানার ওসির সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে।
ইউএনও বলেন, ‘এ বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে। কোনো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে এমন আয়োজনের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই।’
নৌকাবাইচ ঐতিহ্যবাহী একটি বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।
উল্লেখ্য, সিলেটের বিয়ানিবাজারের তৌহিদি জনতার ব্যানারে নৌকা বাইচ করা হয়। যদিও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের সহায়তায় গেলো ২৮ আগস্ট বিয়ানিবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সোনাই নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।