প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬ (মঙ্গলবার)
সিলেটে জনঘনিষ্ঠ ও যোগ্য প্রার্থী চায় বিএনপি: কপাল খুলবে কাদের?

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে দলটি। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নির্বাচনে জনঘনিষ্ঠ, গ্রহণযোগ্য ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সিলেট মহানগর ও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক অবস্থান অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকছে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলো নির্দিষ্ট প্রার্থীদের সমর্থন দিতে পারবে। এ অবস্থায় সিলেট অঞ্চলে বিএনপি এককভাবে জনপ্রিয়তা, তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা এবং মাঠ পর্যায়ের সক্রিয়তার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের দিকে ঝুঁকছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে মতামত সংগ্রহ ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে বিএনপি সংগঠিতভাবে অংশ নেবে। তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে যোগ্য ও জনঘনিষ্ঠ প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় পর্যায়ে কোনো বিভেদ বা অভ্যন্তরীণ কোন্দল যাতে না হয়, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করার প্রথম ধাপ। প্রতীকহীন এ নির্বাচনে ব্যক্তি জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততাই মূল বিষয় হবে। মির্জা আব্বাস বলেন, জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন, তিনিই স্থানীয় উন্নয়নের নেতৃত্ব দেবেন। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকসহ কিছু পেশাজীবীর অংশগ্রহণ নিয়ে আইনগত স্পষ্টতা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীক না থাকায় এবার সিলেটের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, সামাজিক অবস্থান ও দীর্ঘদিনের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড বেশি গুরুত্ব পাবে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন নেতৃত্বের উত্থানও ঘটতে পারে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ আগামী ১২ নভেম্বর। দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ২৭ মে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসি জানায়, চলতি বছরের আগস্টে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন, এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কে পাচ্ছেন দলীয় সমর্থন, কারা থাকছেন তৃণমূলের আস্থায় এবং কার জনভিত্তি কতটা শক্ত। দলীয় প্রতীক ছাড়া এ নির্বাচনে তাই প্রার্থী বাছাইয়ের এই প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে অনেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।