প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩০ (বুধবার)
জাতীয় পতাকা নিয়ে হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পতাকার মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন উচ্চ আদালত। সরকারি অফিস ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা নিজ চেয়ার বা সোফার পেছনে যেভাবে বিধি বহির্ভূতভাবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করছেন, তা তদন্তে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক লিখিত আদেশে এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। কমিটিতে একজন বিচারিক কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধি এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে হবে।

আদালতের আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যেসব সরকারি কর্মকর্তা আইনগতভাবে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকারী নন, তারা কোনোভাবেই অফিস কক্ষে চেয়ার বা সোফার পেছনে পতাকা প্রদর্শন, ঝোলানো বা উত্তোলন করতে পারবেন না। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যে, জাতীয় পতাকাকে কোনোভাবেই অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার সামগ্রী, অফিসের অলংকার কিংবা ব্যক্তিগত ব্যাকড্রপ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী জানান, ১৯৭২ সালের জাতীয় পতাকা বিধিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ১৫ ধরনের ব্যক্তি তাদের দপ্তরে, বাসভবনে ও গাড়িতে পতাকা ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন সচিবালয়ভুক্ত অফিস, করপোরেশন ও অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তারা তাদের বসার চেয়ারের পেছনে পতাকা ব্যবহার করছেন, যা সম্পূর্ণ আইন পরিপন্থী।

আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, বিধি অনুযায়ী ভবনে পতাকা ওড়ানোর ক্ষেত্রে তা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এবং মুক্তভাবে উড্ডয়নশীল (ফ্রি-ফ্লোটিং) অবস্থায় থাকতে হবে। অথচ বর্তমানে কর্মকর্তারা পতাকাকে ভাঁজ করে বা কার্ভ করে ব্যাকড্রপ হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা জাতীয় পতাকার অবমাননার শামিল। মূলত জাতীয় পতাকার এমন যথেচ্ছ ব্যবহার রোধ ও আইনি বিধান সমুন্নত রাখতেই উচ্চ আদালত এই কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন।