প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪ (বুধবার)
সংবর্ধনা নয়, সমন্বয়হীনতার প্রতিবাদ: সিলেট মহানগর বিএনপি

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে আয়োজিত রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। আয়োজকদের ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ এবং সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে দলটির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করলেও রাষ্ট্রপতিকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানানোসহ মাজার জিয়ারতের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন দলটির নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এই অবস্থান পরিষ্কার করেন। বিবৃতিতে তারা জানান, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি এবং তাঁর আগমনে সিলেটবাসী উচ্ছ্বসিত।

মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকেও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তাঁকে বরণ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে সিসিক প্রশাসকের একক কর্তৃত্ব ও অবহেলার কারণে তারা মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা নিয়ে মহানগর বিএনপির সাথে সমন্বয় করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক কমিটি গঠনের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে দুটি সভা হয়েছিল। সভায় সর্বসম্মতভাবে নাগরিক কমিটি গঠনের তাগিদ দেওয়া হলেও সিসিক প্রশাসক তা উপেক্ষা করেন। পরিবর্তে তিনি একক সিদ্ধান্তে আয়োজন সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন এবং বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের দাওয়াতের ক্ষেত্রেও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ফলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নেতাকর্মীরা নগরভবনের অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকেন।

এদিকে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সার্কিট হাউসে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি নেতারা। এসময় তারা অনুষ্ঠান বর্জনের কারণগুলো রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিত অবহিত করেন। সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা ও অবজ্ঞার প্রতিবাদেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়াতে তারা গণমাধ্যম ও দলীয় কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।