ছবি: ইমজা নিউজ
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) ছাত্রসমিতি নির্বাচন ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়হীন শিক্ষার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। আহত দুই শিক্ষার্থীর একজন মো. আবদুর রহমান রাঈদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা দাবি করেছেন, সমঝোতার জন্য বসার সময় উল্টো সিনিয়র শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনায় ধস্তাধস্তি হয়েছে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রশাসন বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহত শিক্ষার্থী সাফকাত তাসিনের অভিযোগ, ছাত্রসমিতি নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিচয়হীন সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাকে ও রাঈদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সাফকাতের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার তাকে ডেকে নিয়ে ছাত্রসমিতি নির্বাচনে বিরোধী প্যানেল গঠন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ছাত্রদল নেতা রাজেশ বাছাড়, সাহসসহ আরও কয়েকজন। একপর্যায়ে তাকে মারধর শুরু করা হলে সহপাঠী আবদুর রহমান রাঈদ ও আশরাফ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন।
সাফকাত অভিযোগ করেন, তখন রাঈদকে ছাতা দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। পরে তাকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। এতে রাঈদ গুরুতর আহত হন।
সাফকাতের আরও অভিযোগ, ছাত্রসমিতি নির্বাচন সামনে রেখে নয়, এর আগেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা, ভয়ভীতি দেখানো এবং হলের আসন বাতিলের হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত হওয়ার উদ্যোগের কারণেই তাদের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা রাজেশ বাছাড়। তার দাবি, অনুষদে সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে একটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে।
রাজেশ বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ছাত্রসমিতি নির্বাচন নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে বর্তমান ভিপিকে অপমান করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার সমঝোতার জন্য বসতে চাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে নিহাল ও রাঈদ উল্টো সিনিয়র শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন।
তার ভাষ্য, এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রাঈদ রাস্তায় পড়ে যান। এতে তিনজন সিনিয়র শিক্ষার্থীও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে সাফকাতের অভিযোগ এবং রাজেশের পাল্টা বক্তব্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এ.টি.এম. মাহবুব-ই-এলাহী জানান, সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে প্রক্টর, ছাত্রপরামর্শক, আইন উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই’ তদন্ত করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন
সিকৃবিতে ছাত্রসমিতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব এবং সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক—তিনটি বিষয়ই এখন আলোচনায় এসেছে। একই ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের বক্তব্যও পরস্পরবিরোধী।
এক পক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়হীন শিক্ষার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতেই চাপ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্য পক্ষের বক্তব্য, ঘটনাটি রাজনৈতিক আধিপত্যের নয়; বরং সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধ ও একটি পূর্ববর্তী অপমানের ঘটনার জেরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে কী উঠে আসে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।