ছবি: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় উপজেলা ক্রীড়া অফিসারের পদ সৃজনের অনুমোদন দিয়েছে অর্থ বিভাগ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ ও ধানমন্ডি মাঠের সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ওই সমঝোতা স্মারক সই হয়। অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের উপস্থিত ছিলেন।
আমিনুল হক বলেন, জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিসার থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে এতদিন এ ধরনের কোনো পদ বা প্রয়োজনীয় জনবল ছিল না। দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিসারের পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার অর্থ বিভাগ দেশের ৪৯৫টি উপজেলার জন্য পদ সৃষ্টির অনুমোদন দিয়েছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের সুফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে। আগামী দুই, তিন বা পাঁচ বছর পর এর বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দিতে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে ১০টি খেলায় দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ অনলাইন নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় আসরের জন্য ১৪ লাখ খেলোয়াড় প্রয়োজন ছিল। নিবন্ধনের সময় আরও কয়েকদিন থাকায় এ সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে।
যাচাই-বাছাই শেষে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে ফুটবল, ক্রিকেটসহ ১০টি ইভেন্টে দল গঠন করা হবে বলে জানান তিনি।
দেশের খেলার মাঠ রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। রামপুরায় মাঠ দখলের ঘটনা সরকারের নজরে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের কোথাও খেলার মাঠ দখল বা এ ধরনের কোনো ঘটনা নজরে এলে তা সরকারকে জানাতে হবে।
মাঠ রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে ধানমন্ডি মাঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাঠগুলো যথাযথভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন আমিনুল হক। বিদ্যমান অবকাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজনীয় নতুন কিছু সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
আবাহনী ও ধানমন্ডি ক্লাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে আমিনুল হক বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর এসব ক্লাব নিয়ে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে।
তার মতে, আবাহনী, ধানমন্ডি ও মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রেখে টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন।
আবাহনী মাঠ পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে ক্লাব পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলো যাতে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন ও প্রতিটি জেলা পর্যায়ে ফুটসাল গ্রাউন্ড তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনগুলোকে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেক প্রশাসক ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ডিপিপি জমা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আমিনুল হক বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ফুটসাল গ্রাউন্ড তৈরি করা।
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতার পাশাপাশি পেশাগত স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের ভাতার আওতায় আনার ফলে তৃণমূলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। খেলোয়াড়দের জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া ক্রীড়া খাতে নতুন করে বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।