প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৪ (শনিবার)
হবিগঞ্জে ২৯ গুণী শিল্পী ও এক সংগঠন পেল শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা

ছবি: ইমজা নিউজ

হবিগঞ্জের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২৯ জন গুণী শিল্পী ও একটি সৃজনশীল সংগঠনকে ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা ২০২০–২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে।

গেলো বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিল্পী ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেওয়া হয়।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি, হবিগঞ্জের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. জি কে গউছ, এমপি।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ, সাহিত্যিক ও গবেষক অধ্যাপক জাহান আরা খাতুন এবং জাসাস হবিগঞ্জের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী।

স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা কালচারাল অফিসার ও সম্মাননা পদক বাছাই কমিটির সদস্যসচিব অসিত বরণ দাশ গুপ্ত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী ও প্রশিক্ষক নাহিদা খান সুর্মি। সম্মাননাপ্রাপ্তদের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করেন অধ্যাপক মো. ইলিয়াছ বখত চৌধুরী (জালাল) ও অধ্যাপক মো. আশ্রাফুল করিম।

২০২০ সালের সম্মাননা পেয়েছেন কণ্ঠসংগীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক, নাট্যকলায় আইনজীবী মো. সফিকুর রহমান চৌধুরী, সৃজনশীল সংগঠক হিসেবে অধ্যাপক মো. ইলিয়াছ বখত চৌধুরী (জালাল), সৃজনশীল সংস্কৃতি গবেষণায় তাহমিনা বেগম গিনি এবং যাত্রাশিল্পে অবনী মোহন দাস।

২০২১ সালে কণ্ঠসংগীতে তাপস কৃষ্ণ মহারত্ন, নাট্যকলায় আইনজীবী ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী, লোকসংস্কৃতিতে অধ্যাপক মো. আশ্রাফুল করিম, যাত্রাশিল্পে মো. জাহির মিয়া এবং আঞ্চলিক সৃজনশীল সংগঠন হিসেবে সুরবিতান ললিতকলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্মাননা পায়।

২০২২ সালে কণ্ঠসংগীতে প্রবোধ সূত্রধর, নাট্যকলায় বাবুল আহমেদ মল্লিক, যাত্রাশিল্পে জনেশ দাশ, চারুকলায় বন্ধুমঙ্গল রায় এবং যন্ত্রসংগীতে হরিপদ দাস সম্মাননা পান।

২০২৩ সালে কণ্ঠসংগীতে সরোজ কান্তি দাস, নাট্যকলায় শাহ আলম চৌধুরী মিন্টু, নৃত্যকলায় জেসমিন আরা খানম চৌধুরী, চারুকলায় অসীম বণিক এবং যন্ত্রসংগীতে টেনু মিয়া সম্মাননা পান।

২০২৪ সালে কণ্ঠসংগীতে কাজল চন্দ্র গোপ, নাট্যকলায় মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ, চারুকলায় তরুণ কুমার রায়, চলচ্চিত্রে মোক্তাদির ইবনে ছালাম এবং ফটোগ্রাফিতে সৌরভ বিকাশ দেব সম্মাননা পেয়েছেন।

২০২৫ সালে কণ্ঠসংগীতে সৈয়দ আশিকুর রহমান, নাট্যকলায় পার্থ প্রতীম সেন, চারুকলায় মীর কমর উদ্দিন আহমেদ, যন্ত্রসংগীতে সুবীর কান্তি রায় এবং নৃত্যকলায় গৌতম চন্দ্র দাশ সুমন সম্মাননা পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সদ্যপ্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম মোস্তফা রফিকের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সম্মাননা পাওয়া শিল্পী ও সংস্কৃতিসেবীরা দীর্ঘদিন ধরে কণ্ঠসংগীত, নাট্যকলা, লোকসংস্কৃতি, যাত্রাশিল্প, চারুকলা, নৃত্য, যন্ত্রসংগীত, চলচ্চিত্র, ফটোগ্রাফি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে হবিগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করে আসছেন। তাঁদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ড স্থানীয় শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

হবিগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করতে তাঁদের দীর্ঘদিনের অবদান অনস্বীকার্য বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহলের অনেকে।