প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৬ (শনিবার)
‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-র নতুন প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবার গড়িয়েছে দলীয় নাম ও নির্বাচনী প্রতীকের সংকটে। ভারতের নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্তে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের ঐতিহ্যবাহী ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য তৃণমূলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করেছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কমিশনের পদক্ষেপকে ‘গণতন্ত্রের কালো অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

কমিশনের অন্তর্বর্তী আদেশ অনুযায়ী, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই মূল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। কমিশনের বক্তব্য, দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূলের প্রকৃত প্রতিনিধি দাবি করায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে পৃথক পরিচয় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন। এসব নির্বাচনের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী পেয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দুই গোষ্ঠীকেই আপাতত সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং নতুন নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে তারা উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। মূল দলীয় নাম ও প্রতীকের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঠিক আগমুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ২৮ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি দলের পরিচয় এভাবে কেড়ে নেওয়া যায় না। দলের সাংগঠনিক নথি ও নির্বাচনী সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলেও কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এদিকে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতার গোষ্ঠীর প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। রেজিনগর নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে তৃণমূলের নাম ও প্রতীকের মূল অধিকার নিয়ে বিরোধ এখানেই শেষ হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এই দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকবে বলেই স্পষ্ট হয়েছে।