জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান সরকার নতুন করে একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সরকারি কাজে নতুন গাড়ি কেনা বন্ধ, কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিত এবং সরকারি নৈশভোজ আয়োজন বন্ধের সিদ্ধান্ত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী তিন মাস সরকারি যানবাহনের জন্য জ্বালানি সরবরাহ ৫০ শতাংশ কমানো হবে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মী-সংক্রান্ত নয় এমন ব্যয় ৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম ছাড়া সরকারি দপ্তরে সব ধরনের টেকসই পণ্য কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরনের বিদেশ সফর তিন মাসের জন্য স্থগিত থাকবে, তবে বৃত্তির আওতাভুক্ত সফর এর বাইরে থাকবে।
সরকারি বৈঠকে টেলিকনফারেন্স ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে জ্বালানি ব্যবহার ও সরকারি ব্যয় কমানো যায়। এছাড়া দেশটির বিয়ের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন আয়োজনেও একটির বেশি পদ পরিবেশন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। তখন দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ রাখা, দপ্তরে জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং বাসা থেকে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশটির জ্বালানি খাতে চাপ আরও বেড়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি পেট্রোল ও ডিজেলের দামও বাড়ানো হয়েছে।
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ৪.১০ রুপি এবং উচ্চগতির ডিজেলের দাম ৬.৪১ রুপি বাড়ানো হয়েছে। ফলে পেট্রোলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ৩৮৪.৩৪ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৪১৫.৮৩ রুপিতে দাঁড়িয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেছেন, জ্বালানি ত্রাণ কর্মসূচির মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন নীতির আওতায় মোটরসাইকেল, রিকশা ও ছোট গাড়ির মালিকদের প্রতি লিটারে ১০০ রুপি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, তবে এর জন্য নির্দিষ্ট ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার।