প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৩ (রবিবার)
মাদ্রাসায় পড়তে অনাগ্রহ, নিজেরাই পালিয়েছিলো সিলেটে নিখোঁজ দুই ছাত্র

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে দুই মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হওয়ার পর একজনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মারধরের ভিডিও দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ার পর ছায়া তদন্তে নামে এসআরবি-৯। শেষ পর্যন্ত জানা গেল, অপহরণ নয়- মাদ্রাসায় পড়তে অনাগ্রহী হয়ে নিজেরাই বেরিয়ে গিয়েছিল দুই কিশোর। পরে তাদের জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজারের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর থানার ফতেহপুর ইউনিয়নের হরিপুর বাজারের মায়ের দোয়া শাহজালাল রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে এসআরবি-৯-এর একটি দল।

উদ্ধার হওয়া দুই কিশোর হলো—সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তর মনসুরপুর গ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে মো. সাইদ মাসুদ চৌধুরী নাইম (১৫) এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বড়বন গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. তামিম আহমদ (১৫)। তারা সিলেট নগরীর খাদিমপাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ফজরের নামাজের সময় দুই কিশোর একসঙ্গে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে তারা মাদ্রাসায় ফিরে না আসায় পরিচালক তোফায়েল আহমেদ বিষয়টি তাদের অভিভাবকদের জানান। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থান ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে অভিভাবকেরা শাহপরাণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে নাইমের বাবার মোবাইল ফোনের ইমো অ্যাপে নম্বরবিহীন একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও কল আসে। সেখানে নাইমের মতো দেখতে এক কিশোরকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়। পরে আরও একটি ভিডিও পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে হরিপুর বাজারের মায়ের দোয়া শাহজালাল রেস্টুরেন্টে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই নিখোঁজ দুই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোর জানায়, তারা মাদ্রাসায় পড়তে অনাগ্রহী ছিল। তাদের মধ্যে একজন এর আগে আরও দুইবার মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর তারা নিজেরাই জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজারে চলে যায় এবং ওই রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করে।

অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির বিষয়ে তাদের বক্তব্য এবং ইমো অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো ভিডিও ও বার্তার উৎস কী—তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।

পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরকে শাহপরাণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসআরবি-৯ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।