প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫০ (রবিবার)
হিমালয়ে বরফ ধস: বাংলাদেশসহ ৮ দেশের জন্য সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে সাম্প্রতিক আকস্মিক বরফ ধস এবং বিধ্বংসী বন্যা কেবল একটি স্থানীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি গোটা হিমালয় অঞ্চলের বাস্তুসংস্থানের জন্য এক অশনিসংকেত।

হিমালয় পর্বতমালার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের জন্য এই ঘটনা এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আশঙ্কাজনক হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে, যার ফলে এ ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

ভৌগোলিক কারণে হিমালয়ের ওপরের অংশে যখনই বরফ ধস কিংবা পাহাড়ি ঢল শুরু হয়, সেই পানি মুহূর্তের মধ্যে তীব্র গতিতে সমতলের দিকে ধেয়ে আসে। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার ভাটিতে অবস্থিত হওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা এই ঢলের সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের ওপর। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ প্রভাবে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা, তীব্র নদীভাঙন এবং অসময়ে পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় অঞ্চলের এই ক্রমবর্ধমান বিপর্যয় একক কোনো দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা অসম্ভব।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন ও পাকিস্তানসহ এই অঞ্চলের আটটি দেশকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি আবহাওয়ার আগাম তথ্য আদান-প্রদান এবং আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণে একটি সমন্বিত ও যৌথ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

সময়োচিত সতর্কবার্তা এবং কার্যকর পদক্ষেপই কেবল এই অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে পারে।