প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩০ (রবিবার)
তৃণমূলের প্রতিভাদের বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ করতে চাই: প্রতিমন্ত্রী

তৃণমূল থেকে উঠে আসা ৩০৬ তরুণ ক্রীড়াবিদকে নিয়ে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) শুরু হয়েছে ৪০ দিনব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজিত এ ক্যাম্পে জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে বাছাই করা সেরা উদীয়মান ক্রীড়াবিদরা অংশ নিচ্ছেন।

বিকেএসপির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে তরুণ ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় জাতীয় দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে নিজের দীর্ঘ ক্রীড়াজীবনের স্মৃতিচারণ করে আমিনুল হক বলেন, বিকেএসপি দেশের খেলোয়াড়দের আবেগ ও সাফল্যের অন্যতম ভিত্তিভূমি। একাগ্রতা, কঠোর অনুশীলন ও অদম্য স্বপ্ন থাকলে যেকোনো বাধা পেরিয়ে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা তরুণ ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু ভালো খেলোয়াড় নয়, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। এ সময় নিজের রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রাম এবং জাতীয় দলে খেলার সময়ের বিভিন্ন স্মৃতিও তরুণদের সামনে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রতিভাবান এসব ক্রীড়াবিদ ও তাদের পরিবারের পাশে অভিভাবকের মতো থাকবে সরকার। প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

আমিনুল হক জানান, আয়োজনটি ৪০ দিনের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ক্যাম্প থেকে নির্বাচিত মেধাবী ক্রীড়াবিদদের বিকেএসপি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিয়মিত পরিচর্যা ও মনিটরিং করা হবে।

খেলোয়াড়দের প্রথাগত শিক্ষাজীবন যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বিকেএসপির মাধ্যমে বিশ্বমানের ক্রীড়া প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া তরুণদের সামাজিক ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। এর মধ্যে খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু এবং প্রত্যেককে বিশেষ ‘ক্রীড়া কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

নতুন প্রজন্মের এই ৩০৬ ক্রীড়াবিদকে আগামীর ক্রীড়া অগ্রযাত্রার ‘প্রথম সৈনিক’ আখ্যা দিয়ে আমিনুল হক বলেন, তাদের মধ্য থেকেই আগামী দিনে জাতীয় দলের কাণ্ডারিরা উঠে আসবে। একদিন তারাই বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরে পরিবার ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।