প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:১১ (রবিবার)
দূরত্ব ঘুচিয়ে প্রবাসীদের কাছে হাইকমিশন, মিলেছে নানা কনস্যুলার সেবা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের দোরগোড়ায় পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা পৌঁছে দিতে মালয়েশিয়ার কুয়ানতানে বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্প পরিচালনা করেছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন। দুই দিনব্যাপী এ বিশেষ সেবা কার্যক্রমে ২৮৮টি ই-পাসপোর্টের এনরোলমেন্ট ও বিতরণসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা দেওয়া হয়েছে।

১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর কুয়ানতানে এনবিএল মানি ট্রান্সফারে এ বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্প পরিচালনা করে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। দূরবর্তী এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কুয়ালালামপুরে না গিয়েই প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ করে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

হাইকমিশন সূত্রে জানা যায়, দুই দিনের কার্যক্রমে মোট ২৮৮টি ই-পাসপোর্টের এনরোলমেন্ট ও বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের কনস্যুলার সেবাও দেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘সেম পারসন/পাসপোর্ট ডাটা কারেকশন লেটার’, লেটার অব ইন্ট্রোডাকশন (এলওআই), সিঙ্গাপুরসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় চিঠি এবং ট্রাভেল পারমিটসহ বিভিন্ন সেবা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে কুয়ানতান ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা নিজেদের কর্মস্থল ও বসবাসের এলাকা থেকে তুলনামূলক সহজে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সেবা গ্রহণের সুযোগ পান।

কনস্যুলার সেবা গ্রহণ করতে আসা প্রবাসীদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ছিলেন। তাদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার পাশাপাশি হাইকমিশনের পক্ষ থেকে অনিয়মিত অভিবাসন এড়িয়ে চলার বিষয়ে সচেতন করা হয়।

বিশেষ করে কর্মরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার পাশাপাশি দেশটির প্রচলিত রীতিনীতি ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা সহজলভ্য করতে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রাজ্য ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের বিশেষ সেবা কার্যক্রম আয়োজনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে দূরবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কুয়ালালামপুরে এসে সেবা নেওয়ার সময়, অর্থ ও শ্রম কমানোর পাশাপাশি কনস্যুলার সেবাকে আরও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বসবাস করেন। তাদের একটি বড় অংশ রাজধানী কুয়ালালামপুরের বাইরে বিভিন্ন রাজ্য ও শিল্পাঞ্চলে কর্মরত। দূরত্ব ও কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকের পক্ষে নিয়মিতভাবে হাইকমিশনে গিয়ে পাসপোর্ট ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ বাস্তবতায় বিভিন্ন রাজ্যে বিশেষ ক্যাম্প আয়োজন প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হাইকমিশনের এ উদ্যোগকে প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সেবা তাদের কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ই-পাসপোর্টের এনরোলমেন্ট ও বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা স্থানীয় পর্যায়ে পাওয়ায় প্রবাসীদের ভোগান্তি কমছে।

হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন অভিবাসন ও আইনগত বিষয়ে সচেতন করার বিষয়টিও এসব ক্যাম্পে গুরুত্ব পাচ্ছে। ভবিষ্যতেও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে এমন বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসীদের সেবার আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।