সিলেটসহ সারাদেশের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নভেম্বরে আয়োজনের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে জানুয়ারিতে করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছে সংস্থাটি।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে নভেম্বর-ডিসেম্বরে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এসব পরীক্ষা ও শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন এড়াতে জানুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ১২ নভেম্বর প্রাথমিকভাবে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা থাকলেও তা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই সময় স্কুল-কলেজের পরীক্ষা চলমান থাকায় ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই বিকল্প সময় হিসেবে জানুয়ারি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চলতি বছরে প্রায় ৩ হাজার ৯৮১টি ইউপি নির্বাচন উপযোগী। বাকি ইউপিগুলোর নির্বাচন ২০২৭ ও ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী, আর আইনি জটিলতার কারণে ১০টি পৌরসভা আপাতত নির্বাচন উপযোগী নয়।
এদিকে দেশে বর্তমানে মোট ৫০০টি উপজেলা রয়েছে, যার সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী। নতুন করে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ভাগ করে মোকামতলা, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ভাগ করে মাতামুহুরী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভাগ করে রুহিয়া ও ভুল্লী এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ভাগ করে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নতুন বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশে মোট ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে এবং সবগুলোই বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী। তবে ইউপি ছাড়া অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।