প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬ (সোমবার)
ফোর লেনে ধীরগতি, দুর্ভোগে শান্তিগঞ্জবাসী

ছবি: ইমজা নিউজ

সড়কটি চার লেন হবে-উন্নত হবে যোগাযোগব্যবস্থা, কমবে যানজট, বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি। এমন প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষায় শান্তিগঞ্জবাসী। কিন্তু উন্নয়নের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই নির্মাণকাজের ধীরগতি ও ধুলাবালিতে নাকাল হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের সিলেট–সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। ৭৫ কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার ২৫২ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে গত বছরের অক্টোবর থেকে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে নির্মাণকাজের বর্তমান গতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কোথাও বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী পড়ে আছে। আবার কোনো কোনো অংশে কাজ চললেও অন্য অংশে তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি। যানবাহন চলাচলের সময় সড়ক থেকে ধুলা উড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে।

দোকানে বসে থাকা ব্যবসায়ীদের অনেককেই ধুলা থেকে মুখ ঢাকতে দেখা গেছে। পণ্যসামগ্রী পরিষ্কার রাখতে হচ্ছে বারবার। ক্রেতারাও ধুলাবালির কারণে স্বস্তিতে দোকানে ঢুকতে পারছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের এলাকায় নিয়মিত পানি ছিটানো না হলে ধুলার এই দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ফোর লেন হবে- এটা আমাদের জন্য ভালো খবর। কিন্তু কাজ যতদিন চলছে, ততদিন আমাদেরও তো ব্যবসা চালাতে হচ্ছে। ধুলায় দোকানের মালামাল নষ্ট হচ্ছে, ক্রেতাও কমে যাচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ হলে সবারই উপকার।’

পথচারীদের ভোগান্তিও কম নয়। ধুলাবালির মধ্যে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। নির্মাণসামগ্রী ও খোঁড়া মাটির কারণে কোথাও কোথাও চলাচলের জায়গাও সংকুচিত হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উন্নয়নকাজের কারণে সাময়িক দুর্ভোগ মেনে নিতে তাদের আপত্তি নেই; কিন্তু কাজ যেন অযথা দীর্ঘায়িত না হয় এবং নির্মাণকালীন মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তির বিষয়টি যেন গুরুত্ব পায়।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা চাই রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ হোক। উন্নয়নের জন্য কিছুদিন কষ্ট করতেই হবে। কিন্তু ধুলা নিয়ন্ত্রণে পানি দেওয়া এবং মানুষ চলাচলের নিরাপদ ব্যবস্থা করা গেলে কষ্ট অনেকটাই কমে যায়।’

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু সড়কটি দৃষ্টিনন্দন করে নির্মাণ নয়, কাজের পুরো সময়জুড়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তাদের মতে, উন্নয়ন মানুষের জন্য; তাই উন্নয়নের নির্মাণপর্বেও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যতটা সম্ভব সচল রাখা জরুরি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য ৭৫ কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার ২৫২ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার সাকিব আল হাসান বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।’

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আতাউর রহমান বলেন, ‘শান্তিগঞ্জের দুই কিলোমিটার ফোর লেনের কাজটি নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দনভাবে হচ্ছে। আমরা নিয়মিত কাজের তদারকি করছি। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।’

উন্নত সড়কের প্রত্যাশায় থাকা শান্তিগঞ্জবাসীর এখন একটাই চাওয়া- কাজটি দ্রুত ও মানসম্মতভাবে শেষ হোক, আর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ধুলাবালি ও অনিরাপদ চলাচলের দুর্ভোগ থেকেও যেন তাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়া হয়।