ছবি: ইমজা নিউজ
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলীমুল ইসলামের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ বা অপসারণের একদফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার প্রশাসনিক ভবনের সব গেটে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ, কেনাকাটা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কেনাকাটায় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং নিম্নমানের সামগ্রী কেনারও অভিযোগ করেন তাঁরা।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যয় দেখিয়ে আত্মসাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের নামে ভর্তি পরীক্ষার আয় থেকে অর্থ ব্যয় বা আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া এবং শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে রাখার অভিযোগও করেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, কোনো কোনো শিক্ষকের বেতন আটকে রাখা, শোকজ, হয়রানি, দুর্ব্যবহার ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালনে বাধা এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের অভিযোগও তোলেন তাঁরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি চলাকালে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে অধ্যাপক ড. মো. আলীমুল ইসলামকে বর্তমান উপাচার্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা বলেন, অবিলম্বে উপাচার্য পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
কর্মসূচিতে অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক, সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতাউর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. কাজী মেহতাজুল ইসলাম, সহসভাপতি অধ্যাপক ড. নাজমুল হক, জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ, মো. বাসির উদ্দিন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সানাউল হোসেন সনি, ১ নম্বর সদস্য ও সাবেক সহসভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম রাব্বানী, সদস্য আব্দুর রাকিব, সায়মুন ইসলাম কবির ও মামুনুর রশিদ।
এ সময় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের নেতা মো. আবু সাঈদ, শওকত হোসেন, সাইফুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।