প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২৮ (মঙ্গলবার)
যে কারণে বরখাস্ত হলেন ৬ পুলিশ কর্মকর্তা

চাকরি থেকে পলায়ন ও অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির ঘটনায় দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস এবং সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল।

প্রজ্ঞাপনের তথ্যে জানা যায়, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহীতে যোগ দেন। ওই দিনই ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন এবং ছুটি শেষে আর যোগদান না করে অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকেই বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়াসহ তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলায় অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি এর আগে চিকিৎসার জন্য ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন, তবে ছুটি শেষে কর্মস্থলে না ফেরায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ডিএমপির সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ছুটি শেষে যোগদান না করায় তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এছাড়া সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বরখাস্তের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।