প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:১৩ (মঙ্গলবার)
সিলেটে তিন খু/ন: সেই বাবুলকে এবার রিমান্ডে নিলো পিবিআই

সিলেট নগরীর রায়নগর রাজবাড়ি এলাকায় একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার মামলার আসামি বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে পিবিআইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এর আগে পিবিআই পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও শুনানি শেষে আদালত দুই দিন মঞ্জুর করেন।

পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, আসামির পূর্বের বক্তব্যের সত্যতা এবং ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না- এসব বিষয় যাচাইয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ‘নিকুঞ্জ ভিলা’ নামের একটি বাসা থেকে ব্যবসায়ী এম আবদুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করলেও পরে তা পিবিআইয়ে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। রিমান্ডে বাবুল দাবি করে, বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে চুরির উদ্দেশ্যে ওই বাসায় প্রবেশ করে। সেখানে গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের কাছে ধরা পড়ে গেলে নিজের অপরাধ আড়াল করতে একে একে তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। পরে বাসা থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

তবে গ্রেপ্তারের পর শুরুতে সে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে ভিন্ন তথ্যও দিয়েছিল। একপর্যায়ে গৃহকর্মীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও বলেছিল সে। পরে তদন্তে ওই বক্তব্যের সত্যতা না পাওয়ায় পুলিশ চুরির উদ্দেশ্যকে প্রধান মোটিভ হিসেবে বিবেচনা করে।

১৬৪ ধারায় জবানবন্দি

চার দিনের রিমান্ড শেষে গত ২০ আগস্ট বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। কোর্ট ইন্সপেক্টর মাহবুবুর রহমান জানান, বাবুল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। তবে জবানবন্দির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

পরিবারের অভিযোগ ও ভিন্নমত

নিহতদের মেয়ে সেলিনা সুলতানা এজহারে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের কথাও উল্লেখ করে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ফলে শুরু থেকেই মামলায় মোটিভ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়।