ছবি: সংগৃহীত
পাসপোর্ট হারানো বা নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথমবার পাসপোর্ট হারালে নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো জরিমানা বা দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে দ্বিতীয়বার বা পরবর্তী প্রতিবার পাসপোর্ট হারানো বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন-৪ শাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় দলিল। সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ পাসপোর্ট হারানোর আবেদন করছেন। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এসব ঝুঁকি কমানো এবং পাসপোর্টের যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।
হারালে যা করতে হবে
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানোর পর তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।
থানা কর্তৃপক্ষ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে প্রতিবেদন পাঠাবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়া না গেলেও জিডির কপি দিয়ে নতুন পাসপোর্টের জন্য পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে।
বিদেশের মাটিতে পাসপোর্ট হারালে নিকটস্থ বাংলাদেশ মিশনকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে।
নতুন পাসপোর্টে থাকবে বিশেষ উল্লেখ
হারানো পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা হলে সংশ্লিষ্ট ডেটাবেজে ‘Previous Passport is Reported to be Lost’ উল্লেখ থাকবে। একই সঙ্গে নাম, জন্মতারিখ, পিতা ও মাতার নামসহ পরিচয়গত মৌলিক তথ্য সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না।
কোনো ট্রাভেল এজেন্সি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে পাসপোর্ট আটকে রাখলে এবং তা উদ্ধার করা সম্ভব না হলে তদন্তের ভিত্তিতে আগের পাসপোর্টটি ‘রিভোক’ বা বাতিল করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও নিয়ম
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পাসপোর্ট আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি সমর্পণ করে নতুন পাসপোর্ট নেওয়া যাবে। তবে পাসপোর্ট সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেলে সেটিকে হারানো পাসপোর্টের আওতায় বিবেচনা করা হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, কোনো পাসপোর্ট একবার হারানো বা চুরি যাওয়ার কারণে ‘রিভোক’ করা হলে পরে সেটি উদ্ধার হলেও আর ভ্রমণের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। উদ্ধার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে হবে।
জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার নতুন এ নির্দেশনা জারি করেছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।