ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিক ও শক্তিশালী করতে ২০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা।
এ ঋণের অর্থে ঢাকার আশপাশের উপশহরীয় এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এর ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গৃহস্থালিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও নির্ভরযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এডিবির ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’ নামে প্রকল্পটি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (বিআরইবি) সহায়তা করবে। এর আওতায় ঢাকার আশপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও শহরাঞ্চলে সেবা দেওয়া ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) বিতরণ অবকাঠামো উন্নত করা হবে।
এডিবির সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এতে সাবস্টেশনে অতিরিক্ত লোড, পুরোনো অবকাঠামো, বিদ্যুৎ অপচয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এডিবির বাংলাদেশে নিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা অপরিহার্য। প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধি-কেন্দ্রিক এলাকার বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে ভবিষ্যতের চাহিদা মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা হবে।
প্রকল্পের আওতায় ৫২টি সাবস্টেশনে মোট ১ হাজার ১৫০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার (এমভিএ) ক্ষমতার নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান ১২টি সাবস্টেশনের সক্ষমতা ১১৫ এমভিএ বাড়ানো হবে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটারের বেশি ওভারহেড ও ভূগর্ভস্থ বিতরণ লাইন নির্মাণ বা উন্নয়ন করা হবে। স্থাপন করা হবে ইনসুলেটেড কন্ডাক্টরও।
নেটওয়ার্ক পরিচালনার আধুনিকায়নে নদী পারাপারের উপযোগী অবকাঠামো ও সুইচিং স্টেশন নির্মাণের পাশাপাশি দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের জন্য ৯০০টি ‘ফল্ট লোকেটর সেট’ স্থাপন করা হবে।
এডিবির বিশেষ ‘রেজিলিয়েন্স ফাইন্যান্সিং’ থেকে প্রকল্পটির জন্য ১৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার অর্থায়ন থাকবে। এর আওতায় পরিবেশবান্ধব গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ারসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
এডিবির তথ্য অনুযায়ী, উন্নত বিতরণ দক্ষতা ও কারিগরি অপচয় কমানোর মাধ্যমে প্রকল্পটি বছরে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করবে।
প্রকল্পের আওতায় বিআরইবি ও পিবিএসগুলোর ডিজিটাল সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, সাইবার নিরাপত্তা, দুর্যোগ-সহনশীল পরিচালনা, পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।
এ ছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের পথও তৈরি করার কথা বলা হয়েছে।
প্রকল্পে বিদ্যুৎ খাতে নারী ও মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এডিবির ঋণের পাশাপাশি প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের ১০ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং বিআরইবির ১৪ কোটি ১৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার সহ-অর্থায়ন রয়েছে। এ ছাড়া এডিবির ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ‘রিপাবলিক অব কোরিয়া ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড’ থেকে ১০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তা অনুদান দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ২০২২ সালে শতভাগ বিদ্যুতায়ন অর্জন করলেও দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। নতুন এ প্রকল্পের মাধ্যমে সেই বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্যোগ-সহনশীল ও কম কার্বন নিঃসরণকারী বিদ্যুৎ অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।