প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৭ (শুক্রবার)
শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৫ পদ শূন্য, মিলছে না প্রয়োজনীয় সেবা

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ৪১টি পদের মধ্যে ২৫টিই শূন্য। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রসূতি ও অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে কোনো চিকিৎসক নেই। জনবলের অভাবে পড়ে আছে এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন। প্যাথলজি বিভাগও চলছে মাত্র একজন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট দিয়ে। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি আগে ৩১ শয্যার ছিল। ২০১২ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও ১৪ বছরেও ৫০ শয্যার উপযোগী জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২২০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৫৩ জন। শূন্য রয়েছে ৬৭টি পদ।

এর মধ্যে চিকিৎসকের ৪১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন। ১২ জন জুনিয়র কনসালট্যান্টের মধ্যে আছেন চারজন। ২৯টি মেডিক্যাল অফিসার ও সহকারী সার্জনের পদের বিপরীতে কর্মরত ১২ জন। উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তার ১২টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন সাতজন। ৩৩টি নার্সের পদের মধ্যে কর্মরত ২৮ জন।

হাসপাতালে চিকিৎসা কর্মকর্তা, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (প্রসূতি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট (ফিজিক্যাল মেডিসিন) পদে বর্তমানে কোনো চিকিৎসক নেই। এ ছাড়া পাঁচটি জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও পাঁচটি সহকারী সার্জনের পদ শূন্য রয়েছে। রেডিওগ্রাফার, ফিজিওথেরাপিস্ট ও কার্ডিওগ্রাফারের পদও খালি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৬০০ থেকে ৭০০ জন এবং জরুরি বিভাগে ১২০ থেকে ১৪০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকেন গড়ে ৫৫ থেকে ৬৫ জন। মঙ্গলবার হাসপাতালে ৫৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। শয্যার সংকট থাকায় কয়েকজনকে বারান্দা ও মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে আসা পরেশ কাহার বলেন, ‘গাইনি ডাক্তার দেখানোর জন্য স্ত্রীকে হাসপাতালে এনেছিলাম। এখানে গাইনি ডাক্তার নেই। আমরা গরিব মানুষ, প্রাইভেটে গিয়ে কীভাবে চিকিৎসা করাব?’

হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক হাসিনা আক্তার বলেন, প্রতিদিনই অন্তঃসত্ত্বা নারীরা হাসপাতালে আসেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় তাঁদের সেবা দিতে সমস্যা হয়। স্বাভাবিক প্রসব ভালোভাবেই হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি মাসে প্রায় ১৫০টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। তবে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে রোগীদের মৌলভীবাজার জেলা হাসপাতালে পাঠাতে হয়।

তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা-বাগান এলাকার দরিদ্র রোগীরা এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় তাঁদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

মেশিন আছে, চালানোর লোক নেই

হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন থাকলেও রেডিওগ্রাফার বা টেকনিশিয়ান না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও নেই সনোলজিস্ট। ফলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।

প্যাথলজি বিভাগেও রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট অভিজিৎ বণিক বলেন, প্রতিদিন প্রচুর পরীক্ষা করতে হয়। কিন্তু জনবল না থাকায় তাঁকেই একাই রক্ত সংগ্রহ, নমুনা প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরীক্ষা ও রিপোর্ট দেওয়ার কাজ করতে হচ্ছে। এতে কাজের চাপ বাড়ছে এবং সেবায় বিঘ্ন ঘটছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ অন্যান্য সহায়ক জনবলেরও সংকট রয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিনথিয়া তাসমিন বলেন, ‘নানা সংকটের মধ্যেও আমরা সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। জনবল চেয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখনো প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া যায়নি।’