প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৩০ (শুক্রবার)
সিলেটে নবীনদের ফুল-কলম দেওয়া নিয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত ৫০

ছবি: ইমজা নিউজ

সুনামগঞ্জের ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত, ৫০ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস, কলেজ সংলগ্ন সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক ও গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের  ঘটনা ঘটে।

প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী থেমে থেমে চলে ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া| সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি ককটেল বিষ্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়কে সংঘর্ষ চলার কারণে সিলেট-ছাতক-সুনামগঞ্জ মুখী যানকবহন তিনদিক থেকে আটকা পড়ে| দীর্ঘ যানজটে পড়ে চরম ভোগান্তি পোহান সাধারণ যাত্রীরা।
পরে সুনামগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত ফোর্স এনে বিকাল ৪টার দিকে পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে আনে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এই অনুষ্ঠানে নবাগত শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ফুল ও কলম উপহার দিলে বাধা দেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এর জের ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া।

পরবর্তীতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাস সংলগ্ন সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট এলাকায়| এভাবে প্রায় চার  ঘণ্টা থেমে থেমে সংঘর্ষ চলার পর সুনামগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন| আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান ও গুরুতর আহতদের সিলেট ওসমানী হাসাপাতাল ভর্তি করা হয়েছে।

কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমরা নবগত শিক্ষার্থীদের ফুল ও কলম উপহার দিয়ে ফেরার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের উপর অতির্কিতে হামলা চালান। এতে আমি, কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদকসহ ৩২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জনের অবস্থা গুরুতর। গুরুতর আহতদের মধ্যে ছাতক উপজেলা শিবির সভাপতি জুনেদ আহমেদ,সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, থানা সেক্রেটারি নাঈম আহমেদ, কলেজ শাখার সভাপতি আব্দুল আজিজ, শিবির নেতা লায়েক আহমদ, মাহফুজ আহমেদ, ওয়াদুদ আহমেদ, মাসুম আহমদ ও রবিউল ইসলামকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাহবুব আলম বলেন, ছাত্রশিবিরের আমাদের ৩০ থেকে ৩৫ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছে। এদের মধ্যে ১২ থেকে ১৩ জনের অবস্থা গুরুতর।

গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ সাফিকুল আলম বলেন, ‘আজ কলেজে নতুন ক্লাস শুরু হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা নবীনবরণ ও ক্লাস নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। কলেজের ভেতরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কলেজের গেটের বাইরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।’

ছাতক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝনক মোহন্ত বলেন, সংঘর্ষ শুরুর খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে| যানবাহন চলাচল  স্বাভাবিক হয়েছে|

এ রি‌পোট লেখা পযন্ত গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।