প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২৬ (শুক্রবার)
দানের টাকার যে সমধান দেখছেন ডা. শফিকুর রহমান

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান ও আয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, মাজারের আয় কীভাবে সমাজ ও ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা যায়- তা নিয়ে সরকার, মাজারের খাদেম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সংলাপ হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “কোনো পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করে নয়, আলোচনার মাধ্যমেই টেকসই সমাধানে পৌঁছানো উচিত। আমার বিশ্বাস, সংলাপের মাধ্যমে সুন্দর কিছু বেরিয়ে আসতে পারে।”

মাজারের দানের অর্থ বণ্টন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বর্তমানে ৩৫ শতাংশ জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উন্নয়ন খাতে এবং ৬৫ শতাংশ মাজার কর্তৃপক্ষের ব্যয় নির্বাহে ব্যবহারের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটি নিয়েও আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ধর্মীয় হওয়ায় মাজারের আয় সমাজ ও দ্বীনের কল্যাণে ব্যবহার করা গেলে সেটি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মাজারের খেদমতের সঙ্গে যুক্তরা একটি পক্ষ হিসেবে থাকবেন, পাশাপাশি সরকার ও সিলেটের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ হতে পারে।

শাহজালাল (রহ.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “তার কারণে সিলেটের এই মাটি গর্বিত। মাজার থেকে প্রাপ্ত অর্থ যদি সমাজকল্যাণে ব্যবহার করা যায়, তাহলে তা আরও বেশি মানুষের উপকারে আসবে।”

এ প্রসঙ্গে তিনি কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানের অর্থ ব্যবহারের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে উঠলে মানুষের আস্থা বাড়বে এবং দানের পরিমাণও বাড়তে পারে।

এর আগে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নেয়। মঙ্গলবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দানবাক্সের টাকা প্রতিদিন গণনার সিদ্ধান্ত হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে সোনালী ব্যাংকের হিসাবে জমা রাখা হবে, যা জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতওয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ অর্থ মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতনে ব্যবহার করা হবে।

কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে একজন ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেওয়া হবে, যিনি অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন বা সেনা কর্মকর্তা হতে পারেন। এছাড়া একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারীও নিয়োগ দেওয়া হবে।