ছবি: সংগৃহীত
সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আর নির্বাচন এলেই বিশ্বনাথের আট ইউনিয়নে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। কেউ দলীয় মনোনয়নের আশায় নেতাদের দ্বারে দ্বারে, কেউ আবার নিজের জনপ্রিয়তার হিসাব কষছেন। লামাকাজী, খাজাঞ্চি, অলংকারি, রামপাশা, দৌলতপুর, বিশ্বনাথ, দেওকলস ও দশঘর; সবখানেই এখন নির্বাচনী হাওয়া।
ইতোমধ্যে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের তালিকাও তৈরি করে ফেলেছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী বাছাই করা হয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অবশ্য বসে নেই। দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে যেমন ঘুরছেন, তেমনি দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন জোরেশোরে।
এর মধ্যে দেওকলস ইউনিয়নে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আব্দুল বাছির খান। গ্রামের বাড়ি ইউনিয়নের কাজাকাবাদে। লন্ডনে বসেই তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। চলছে প্রচারণাও।
তবে বাছির খানের এই নির্বাচনী যাত্রার গল্পটা একটু অন্যরকম।
গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফখরুল আহমদ মতসিনের পক্ষে মাঠে নেমেছিলেন। তখন মতসিন ছিলেন নৌকার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী। বাছির খান সরাসরি লন্ডন থেকে দেশে এসে তাঁর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত মতসিন নির্বাচনে জয়ীও হন।
এবার দৃশ্যপট বদলেছে। বাছির খান বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে উঠেছে সেই পুরোনো দিনের ছবি। কোথাও ফখরুল আহমদ মতসিনের সঙ্গে গলায় মালা, কোথাও বিজয়ের উচ্ছ্বাস, আবার কোথাও নির্বাচনী সভায় বক্তব্য; সব মিলিয়ে পুরোনো ছবিগুলো যেন নতুন করে আলোচনায় হাজির।
শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীর বাসায় গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ছবিও রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দেশের বহুল আলোচিত সাবেক মন্ত্রী সালমান এফ রহমানের সঙ্গেও বাছির খানের ছবি দেখা যায় ফেসবুকে।
তারপর এলো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। বদলে গেল দৃশ্যপট, বদলে গেল যোগাযোগের পরিধিও। এখন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনাসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বাছির খানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।
ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন-বাছির খান আসলে কার? আওয়ামী লীগ, নাকি বিএনপির?
এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য বাছির খান নিজেই দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি বিএনপি করেন। ফখরুল আহমদ মতসিনের সঙ্গে থাকা প্রসঙ্গে তাঁর ব্যাখ্যা, তখন মতসিন নৌকার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। তাই তাঁর পক্ষে কাজ করেছিলেন।
আর শফিকুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে ছবির বিষয়ে বাছির খানের বক্তব্য আরও সরল; ‘শফিকুর রহমান চৌধুরী আমার নানা। তাই তাঁর সঙ্গে ছবি তুলেছি।’
তবে এখানেই শেষ নয়। বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করার পাশাপাশি দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগও রয়েছে বিএনপি-দাবিদার এই সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
তবে মনোনয়ন পেলেন কি পেলেন না; সেটিকে তিনি বড় বাধা মনে করছেন না। বরং নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বেশ দৃঢ় বাছির খান।
তাঁর ভাষায়, ‘আমি যদি না মরি, তাহলে শতভাগ নিশ্চিত দেওকলস ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করব।’
এখন দেখার বিষয়- দেওকলসের ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত বাছির খান কোন পরিচয়ে, কোন প্রতীকে এবং কার সমর্থনে হাজির হন। আপাতত পুরোনো ছবির অ্যালবাম আর নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগ; দুটো মিলিয়েই আলোচনার বেশ ভালো খোরাক জোগাচ্ছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এই সম্ভাব্য প্রার্থী।