প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫ (শনিবার)
মাজারের টাকা নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্য, ‘বৈপরীত্য’ দেখছেন কিম

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের নেওয়া পদক্ষেপের মাজার কেন্দ্রীক যে ইস্যু তৈরি হয়েছে এর পেছনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সিলেট সংক্ষুব্ধ নাগরিক কমিটির সংগঠক আব্দুল করিম কিম।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনাও করেন তিনি।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে চলতি বছরের জুন থেকে প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে দানবাক্স ও মানতের ডেগের টাকা গণনা শুরু হয়। প্রথম দফায় ২২ জুন ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। এরপর কয়েক দফায় গণনা শেষে ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। চার দফায় মোট ২ কোটি ২৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা পাওয়া গেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন থেকে প্রতিদিন সকালে নির্ধারিত স্থানে প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হবে। গণনা করা অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যয় করা হবে।

এ ছাড়া মাজারের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন করে ম্যানেজারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়।

এই সিদ্ধান্তের পর ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট সফরে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি সরকার, মাজারের খেদমতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এবং সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় সংলাপের প্রস্তাব দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে মাজারের ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে আয় সমাজ ও ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা যায়।

মাজারের আয়-ব্যয়ের বর্তমান কাঠামো নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে ৩৫ শতাংশ জেলা প্রশাসনের হিসাব এবং ৬৫ শতাংশ মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে বণ্টনের যে ব্যবস্থা হয়েছে, সেটি নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ না করে সংলাপের মাধ্যমে টেকসই সমাধানে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শফিকুর রহমানের এ বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান আব্দুল করিম কিম। তাঁর পোস্টের শুরুতে তিনি লেখেন, ‘মাজার ইস্যুতে জামাত আমির কথা বলছেন দেখে অবাক হইনি। অনেকে অবাক হয়েছেন।’

কিম তাঁর পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর ধর্মীয় অবস্থান এবং মাজারকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, জামায়াতের নেতারা ঐতিহাসিকভাবে মাজার জিয়ারত ও মাজারকেন্দ্রিক বিভিন্ন রীতির বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়ে এসেছেন। সেই অবস্থানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে শাহজালাল মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্যের বৈপরীত্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতের নেতারা শাহজালাল মাজারের পাশের মসজিদে নামাজ আদায় করেন না এবং ঈদের জামাতও আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত হয়। মাজারে দান বা মানতের অর্থ দেওয়া নিয়েও জামায়াতের ধর্মীয় অবস্থানের কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।

পোস্টে কিম আরও লেখেন, ‘সেই শিরক ও বেদাত বলা মাজার পূজারীদের টাকা নিয়ে এখন জামাত আমির কথা বলছেন।’ এরপর মাজারের অর্থ নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে জামায়াত আমিরের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তার পুরো ফেসবুক স্ট্যাটাস,
 ‘মাজার ইস্যুতে জামাত আমির কথা বলছেন দেখে অবাক হইনি। অনেকে অবাক হয়েছেন।
অনেকের অবাক হওয়ার কারন হচ্ছে হযরত শাহজালাল (রহ)-এর মাজারে জামাতের আক্বিদার নেতৃবৃন্দকে কেউ জিয়ারত করতে দেখেনি কখনো।
এই যে আমির সাহেব বিরোধী দলের নেতা হয়েছেন, তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেও ঐ মুখো হননি। আসলে জিয়ারত করা তো দূর কি বাত, নামাজ আদায় করতেও জামাতের নেতাদের কেউ দরগায় পা রাখতেও দেখেনি। ওরা মাজারের পাশে মসজিদ থাকাটার পক্ষেও না। তাই এখানে গোলাম আজম থেকে শুরু করে আমির হামজা পর্যন্ত বড় বড় জামাতি কোন নেতাকে কেউ দরগা মসজিদে নামাজ পড়তে দেখেনি। পরকিয়া করে হোটেলে ধরা খাওয়া জামাতের সাংসদ কাজি নজরুল পর্যন্ত এই ব্যাপারে কঠোর ছিলেন। অবিবাহিত কিশোরী নাতিনের সাথে ফষ্টিনষ্টি করা জায়েজ হলেও মাজার জিয়ারত? নাউজুবিল্লাহ ????
জামাতের লোকজন দরগা-ই-হযরত শাহজালাল মসজিদ থেকে ২০০ মিটার দূরে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নিজেদের বিশ্বাসের লোকজন নিয়ে আলাদাভাবে ঈদের জামাত আদায় করে। যদিও সিলেটের ২য় বৃহত্তম ঈদ জামাত হয় দরগা -ই-হযরত শাহজালাল প্রাঙ্গনে।
সেই জামাতের আমির আজ দরগা নিয়ে কথা বলতে আসছেন। মাজারের টাকা নিয়ে কথা বলছেন! যা তাদের এতোদিনের বক্তব্য-বিবৃতি বা বিশ্বাসের বিপরীত। যদিও জামাতের চরিত্রে এমন বৈপরীত্য জন্ম থেকেই আছে।
জামাতিরা মাজার বলতে কিছু নেই এমনটাই বিশ্বাস করে। মাজার না থাকলে মাজার জিয়ারতের তো প্রশ্ন আসেনা। তাই তাদেরকে কেউ মাজার জিয়ারত করতে দেখে না। যেখানে জিয়ারত নেই সেখানে মাজারে মানতের টাকা দেয়ারতো প্রশ্নই আসে না। তাদের ভাষ্যে মাজারে টাকা দেয় বেদাতিরা।
মাজার জিয়ারতে করা, মাজারে টাকা দেয়া ওদের কাছে শিরক ও বেদাত। যারা মাজারে মানত করে, টাকা দেয় জামাতিরা তাদের মাজার পূজারী বলে।
সেই শিরক ও বেদাত বলা মাজার পূজারীদের টাকা নিয়ে এখন জামাত আমির কথা বলছেন। আসলে খোলস ছেড়ে মাজার ইস্যুতে কথা বলার তিনি কে? তাকে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করা উচিৎ ছিল- আপনি মাজার নিয়ে কোন মুখে কথা বলছেন?
মওদুদী আক্বিদার লোক তাসাউফ বা সুফি আক্বিদার রেওয়াজ ও রসম নিয়ে কথা বলতে আসা সীমা লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে। এ এক নির্লজ্জতা।
এরা যে নির্লজ্জের মত এই ইস্যুতে শেষতক কথা বলবে সে কথা আমরা জানতাম। এই ইস্যু সৃষ্টির পেছনে জামাত ছিল কিন্তু ওরা সামনে না এসে কওমি মোল্লাদের দিয়ে মাঠ গরম রেখেছিল। যাক শেষতক শহীদুল্লাহ হল- এর সাবেক শিবির নেতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে আমির সাহেবকে কথা বলায় এই ইস্যু সৃষ্টির পেছনে আসলে কারা ছিল তা এবার পরিষ্কার হলো। যদিও এই ইস্যুতে বট বাহিনী ও জামাতি মিডিয়ার ভূমিকা দেখে বোঝা গেছে পর্দার আড়ালে কে।’