প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:২৮ (শনিবার)
‘ইয়াবা’ দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ, দুই পুলিশ সদস্য ক্লোজড

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে জমিজমা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে যাওয়ার পথে একটি পরিবারের তিন সদস্যকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাফিউর রহমান।

রাফিউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন। বিভাগীয় ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।’

ভুক্তভোগীরা হলেন চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া, তার ভাই ইউনুস মিয়া ও ইউনুস মিয়ার মেয়ে জাসমিন আক্তার।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়ার পরিবারের সঙ্গে চলাচলের রাস্তা নিয়ে প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার সকালে ছায়েদ মিয়া, ইউনুস মিয়া ও জাসমিন আক্তার একটি মামলায় আদালতে হাজিরার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন।

পরে তারা উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের অভিযোগ, এসআই মাসুম আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা তল্লাশির নামে তাদের পকেটে জোর করে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেন এবং পরে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যান। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

তবে ভুক্তভোগীদের এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে শত শত এলাকাবাসী চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থেই দুই পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।