সিগারেটের দাম বাড়ানোর পরও সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব বাড়ছে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে সিগারেট থেকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা কমেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক কর্মশালায় এই তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি’ বিষয়ক এ কর্মশালায় সাংবাদিক, গবেষক ও তামাক নিয়ন্ত্রণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় পিপিআরসির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মোহাম্মদ ইহতেশাম হাসান তামাক কর কাঠামো, বাজার প্রবণতা, রাজস্ব আদায় এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব তুলে ধরেন।
উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে সিগারেট থেকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় হয়েছিল প্রায় ৭ হাজার ৭৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। চলতি বছরের একই সময়ে তা নেমে এসেছে প্রায় ৪ হাজার ৭৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আদায় কমেছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।
তবে পিপিআরসি বলছে, এই ঘাটতিকে এখনই স্থায়ী রাজস্ব ক্ষতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নতুন ত্রৈমাসিক ভ্যাট ব্যবস্থা রাজস্ব হিসাব ও আদায়ের সময়কে প্রভাবিত করতে পারে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সময়গত প্রভাব বিবেচনায় নিলে আপাত ঘাটতি কমে প্রায় ১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকায় নামতে পারে। প্রকৃত চিত্র জানতে জুলাই-সেপ্টেম্বরের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রয়োজন।
গবেষণায় আরও বলা হয়, চলতি অর্থবছরে সিগারেটের চার স্তরের মূল্য কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে এবং নির্দিষ্ট কোনো আবগারি কর চালু হয়নি। নিম্নস্তরের সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করা হয়েছে। মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৯২, ১৬০ ও ২১০ টাকা।
তবে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করলে সিগারেটের প্রকৃত দাম কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়। ফলে নামমাত্র দাম বাড়লেও বাস্তবে সিগারেট তুলনামূলকভাবে কম সাশ্রয়ী হয়নি, যা রাজস্ব আদায়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজার প্রবণতায়ও পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট বাজারে নিম্নস্তরের সিগারেটের অংশ ছিল ৭৭ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের মে নাগাদ ৪৯ শতাংশের নিচে নেমেছে। বিপরীতে মধ্যম স্তরের অংশ ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমান মূল্যভিত্তিক কর কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে খুচরা মূল্য বাড়লেও রাজস্ব একই হারে বাড়ে না। তাই নির্দিষ্ট আবগারি কর চালু করলে রাজস্ব আদায় আরও পূর্বানুমানযোগ্য হতে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, সিগারেটের ব্যবহার কমাতে মূল্য ও করের মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যকে আরও কম সাশ্রয়ী করতে হবে। একই সঙ্গে বাজার নজরদারি জোরদার, প্রকৃত বিক্রয়মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং করসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।